মুখের ভেতর বা জিভের পাশে দুই সপ্তাহের বেশি ব্যথাহীন জেদি ঘা অবহেলা করে কি ওটিসি মলম লাগাচ্ছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের বায়োপসি পরীক্ষা ছাড়া কেমিক্যালের এই ক্ষতিকর প্রলেপ আপনার ভেতরের ওরাল ক্যানসারের জীবাণুকে আড়াল করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

মুখের ভেতর দীর্ঘস্থায়ী জেদি ঘা বা সাদা-লাল প্যাচ হওয়াকে সাধারণ ভিটামিনের অভাব মনে করে ওটিসি (OTC) মলম মেখে চেপে রাখা মারাত্মক অপরাধ; কারণ এটি ওরাল ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে যা লেট স্টেজে পৌঁছালে চোয়ালের হাড়সহ কেটে বাদ দিতে হয়।

আমাদের ওরাল ক্যানসার ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক মুমূর্ষু ও অবহেলিত ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের মুখের বা জিভের ক্যানসার কোষগুলো অনবরত ভুল কেমিক্যাল বড়ি ও মলম সেবনের ফলে জ্যামিতিক হারে ড্যামেজ ছড়িয়ে চোয়ালের হাড় এবং লিম্ফ নোডে (Metastasis) মারাত্মকভাবে আক্রমণ করেছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, মুখের ভেতর কোনো ঘা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হওয়া, খাবার চিবানোর সময় চোয়ালে কষা টান লাগা বা জিব নাড়াতে তীব্র কষ্ট অনুভব করা কিংবা মাড়িতে জেদি সাদা-লাল প্যাচ (Leukoplakia) দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড ওরাল সার্জনের কাছে যান না। এর বদলে তারা চর্মরোগ বা সাধারণ মুখের ঘা মনে করে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ক্ষতিকর ওটিসি স্টেরয়েড যুক্ত ওরাল পেস্ট বা কড়া পেইনকিলার কিনে বছরের পর বছর খেয়ে চেপে রাখেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত জীবনঘাতী এবং মুখগহ্বরের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ওঙ্কোলজি ও টিস্যু প্যাথলজি অনুযায়ী, ধূমপানের বিষাক্ত নিকোটিন, জর্দা, গুল, খৈনি এবং সুপারি-চুনের কড়া রাসায়নিক ককটেল মুখের নরম এপিথেলিয়াল কোষগুলোকে অনবরত পুড়িয়ে সেখানে ম্যালিগন্যান্ট বা ক্ষতিকর টিউমার কোষের জন্ম দেয়।

আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট বায়োপসি (Biopsy) বা টিস্যু পরীক্ষা ছাড়া কেবল ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস বা মলম খেয়ে এই তীব্র সতর্ক সংকেত বা অ্যালার্মকে কৃত্রিমভাবে অবশ করে রাখবেন, তখন ভেতরের এই ক্ষতিকর কোষগুলো বিন্দুমাত্র নিরাময় হয় না। উল্টো এটি চোয়ালের মজবুত হাড়ের কাঠামোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে পুরোপুরি গলিয়ে এক নিমিষে মারাত্মক ও স্থায়ী ক্যান্সারের শেষ স্টেজের দিকে ঠেলে দেয়, যার ফলে মুখ সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যায় এবং কোনো আগাম সতর্কবার্তা বা কড়া ওষধি অস্ত্রোপচারের সুযোগ না দিয়ে রোগীর জীবনকে চিরতরে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয়।

মুখের এই মরণব্যাধি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের মূল্যবান গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে লক্ষণ দেখামাত্রই একজন ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনের অধীনে একটি সাধারণ টিস্যু হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করিয়ে মূল কোষের গঠন নিখুঁতভাবে লক করার ভেতর। ক্যানসারের আগুন সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করতে আজই এই মুহূর্ত থেকে বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া, জর্দা, গুল ও সাদা পাতা চিবানো শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই মুখের ক্যানসারের প্রধান কাঁচামাল। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা এবং ডুবো তেলে ভাজা প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড সম্পূর্ণ বর্জন করুন। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তাজা দেশী টক ফল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং লিভার সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. কামরুল হাসান

মুখে দুই সপ্তাহের ঘা ছিল, অবহেলা করতাম। বায়োপসি করিয়ে জানলাম লিউকোপ্ল্যাকিয়া। এখন নিয়মিত চেকআপ করাই।

সালমা খাতুন

জর্দা চিবানোর অভ্যাস ছিল। মুখে সাদা দাগ দেখে ভয় পেয়েছি। এখন সম্পূর্ণ বর্জন করেছি।

আবদুর রহিম

সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি এই অভিমত পড়ার পর। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফল খাওয়া শুরু করেছি।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।