আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে হঠাৎ কি জরায়ুতে ফাইব্রয়েড টিউমার ধরা পড়েছে? অপারেশন করতেই হবে কি?
জানুন জরায়ুর এই সাধারণ মাংসপিণ্ড কীভাবে আপনার অনিয়মিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
জরায়ুর ফাইব্রয়েড (Uterine Fibroids) কোনো ক্ষতিকর ক্যানসার নয়, এটি হরমোনের কারণে জরায়ুর পেশীর অতিরিক্ত বৃদ্ধি; যা সব সময় কাটার প্রয়োজন হয় না বরং লাইফস্টাইল ঠিক রাখলে নিজে থেকেই শান্ত থাকে।
আমাদের প্রসূতি ও গাইনোকোলজি ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক বিবাহিত ও অবিবাহিত নারী রোগী আসেন, যারা তলপেটে অনবরত ভারী অস্বস্তি, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অথবা সন্তান ধারণে বিলম্ব হওয়ার পর সাধারণ আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর হঠাৎ জরায়ুতে টিউমার বা ফাইব্রয়েড (Fibroids) শব্দটা দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারীই মনে করেন জরায়ুতে টিউমার হওয়া মানেই তা ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ এবং দ্রুত পুরো জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব প্যাথলজি অনুযায়ী, জরায়ুর ফাইব্রয়েড হলো জরায়ুর দেয়ালের মসৃণ পেশী বা স্মুথ মাসল কোষের অত্যন্ত সাধারণ ও বিনাইন (Non-cancerous) এক ধরণের অতিবৃদ্ধি। এটি কোনো মরণব্যাধি বা ক্যানসার নয় এবং এটি থেকে ক্যানসার ছড়ানোর ঝুঁকি শতকরা ১ ভাগের চেয়েও কম।
ফাইব্রয়েড টিউমার তৈরি হওয়ার মূল চালিকাশক্তি হলো নারীদের শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল দুটি প্রধান হরমোন—ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন। ভুল খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা বা শরীরের ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ফলে যখন শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্য ঘটে, তখনই জরায়ুর পেশীগুলো অস্বাভাবিকভাবে উদ্দীপিত হয়ে ছোট-বড় মাংসপিণ্ডে রূপ নেয়।
যদি ফাইব্রয়েডের আকার খুব ছোট হয় এবং এর ফলে পিরিয়ডের কোনো মারাত্মক গোলমাল বা সন্তান ধারণে কোনো বাধার সৃষ্টি না হয়, তবে কোনো ক্ষতিকর ওষুধ বা অপারেশনের ধকলের বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই। শুধু হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনলে এই টিউমার আর বড় হতে পারে না এবং মেনোপজ বা পিরিয়ড স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পর এটি প্রাকৃতিকভাবেই জরায়ুর ভেতরে শুকিয়ে যায়।
ফাইব্রয়েড নিয়ন্ত্রণের সঠিক পদ্ধতি হলো—প্রতিদিন প্রচুর শাক-সবজি, ফাইবারযুক্ত খাবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত ফলমূল খাওয়া। রেড মিট, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করা। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। বছরে অন্তত একবার গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করা।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ফাইব্রয়েড ধরা পড়ে চরম ভয়ে ছিলাম। ডাক্তার ম্যাডামের পরামর্শ মেনে এখন সুস্থ আছি। অপারেশন লাগেনি।
একজন গাইনি সার্জন হিসেবে বলছি, সব ফাইব্রয়েড কাটার দরকার নেই। এই পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লাইফস্টাইল ঠিক করে ফাইব্রয়েড কমিয়েছি। সবাইকে এই পরামর্শ মানতে বলব।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
