গর্ভাবস্থায় শরীর অতিরিক্ত ফ্যাকাশে ও অনবরত ক্লান্ত লাগছে? রক্তস্বল্পতার লক্ষণ নয় তো?

জানুন অবহেলিত হিমোগ্লোবিনের এই তীব্র ঘাটতি কীভাবে প্রসবের মুহূর্তে মায়ের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া থাকলে তা শুধু বাচ্চার ওজন কমায় না; বরং প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (PPH) ঘটিয়ে মায়ের জীবনকে এক সেকেন্ডে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।

আমাদের লেবার ওয়ার্ড ও প্রসূতি জটিলতা বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক মা মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি হন, যাদের শরীর তীব্র রক্তস্বল্পতার কারণে একদম ফ্যাকাশে হয়ে গেছে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে (৭-৮ গ্রাম/ডেসিলিটার) গেছে। আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ পরিবারগুলোতে একটি অত্যন্ত প্রচলিত ও ভয়ানক অবহেলার চিত্র হলো—গর্ভবতী মায়ের অনবরত মাথা ঘোরানো, অতিরিক্ত ক্লান্তি, সামান্য হাঁটলেই বুক ধড়ফড় করা এবং হাত-পা ফুলে যাওয়াকে সাধারণ গর্ভাবস্থার লক্ষণ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব মেটাবলিক অ্যানাটমি অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীরে রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমার পরিমাণ প্রাকৃতিকভাবেই প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই বর্ধিত রক্তের সাথে সামঞ্জস্য রেখে লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য শরীরে প্রচুর আয়রনের প্রয়োজন হয়।

যদি খাবারের মাধ্যমে এই আয়রনের জোগান না মেলে, তবে মায়ের শরীর তীব্র আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হয়। রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে জরায়ুর ভেতরের গর্ভফুল বা প্লাসেন্টা বাচ্চার শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না। এর সরাসরি ফলে, গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি থমকে যায়, বাচ্চার ব্রেইন ও হার্টের বিকাশ ব্যাহত হয় এবং ওজনের তীব্র ঘাটতি নিয়ে সময়ের আগেই অপূর্ণাঙ্গ বা মরা বাচ্চা প্রসবের (Stillbirth) ঝুঁকি বহুণ বেড়ে যায়।

এর চেয়েও মারাত্মক বিপদ ঘটে প্রসবের ঠিক পর মুহূর্তে। রক্তস্বল্পতায় ভোগা দুর্বল জরায়ুর পেশীগুলো বাচ্চার জন্মের পর সহজে সংকুচিত হতে পারে না, যার ফলে প্রসব-পরবর্তী অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণ (Postpartum Hemorrhage) শুরু হয়। এই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ সামলানোর মতো হিমোগ্লোবিনের রিজার্ভ মায়ের শরীরে না থাকায় রোগী খুব দ্রুত কার্ডিয়াক শকে চলে যান, যা মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধের একমাত্র বৈজ্ঞানিক উপায় হলো—প্রতিদিন আয়রন ও ফলিক এসিড যুক্ত খাবার খাওয়া। প্রচুর লাল শাক, কলিজা, লাল মাংস, খেজুর, বেগুনি শাকসবজি ও ডাল জাতীয় খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত আয়রন ও ফলিক এসিড বড়ি সেবন করা।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

রহিমা বেগম

গর্ভাবস্থায় অ্যানিমিয়া হয়েছিল। প্রসবের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। ডাক্তার ম্যাডামের কথা শতভাগ সত্যি।

ডা. সালমা আক্তার

একজন প্রসূতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলছি, অ্যানিমিয়া মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ। এই সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

ফাতেমা খাতুন

আয়রন বড়ি ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে সুস্থ সন্তান প্রসব করেছি। সব গর্ভবতী মাকে এই পরামর্শ মানতে বলব।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।