গলার স্বর হঠাৎ বসে গেছে এবং কোনো সাধারণ কাশির সিরাপে কি বিন্দুমাত্র কাজ হচ্ছে না?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি ড্রাগসের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার ভেতরের হেড-নেক ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেতকে আড়াল করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
গলার কণ্ঠস্বর হঠাৎ বসে যাওয়া বা মুখে-জিভে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাহীন ঘা হওয়াকে সাধারণ গ্যাসের এসিডিটি বা ঠান্ডা মনে করে ওটিসি (OTC) সিরাপ খেয়ে চেপে রাখা মারাত্মক অপরাধ; কারণ এটি হেড-নেক ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে যা লেট স্টেজে পৌঁছালে নিরাময় অসম্ভব।
আমাদের হেড-নেক ক্যানসার ও ওকো-সার্জারি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক মুমূর্ষু ও অবহেলিত ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের গলার স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসের ক্যানসার কোষগুলো অনবরত ভুল কেমিক্যাল বড়ি সেবনের ফলে জ্যামিতিক হারে ড্যামেজ ছড়িয়ে ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে (Metastasis) ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলার আওয়াজ ভাঙা থাকা, গিলতে গেলে কান পর্যন্ত ছিটকে যাওয়া তীব্র ব্যথা অনুভব করা কিংবা মুখের ভেতরে সাদা-লাল জেদি প্যাচ বা ঘা (Leukoplakia) দেখা দেওয়ামাত্রই তারা চর্মরোগ বা বাতের মতো অবহেলা করে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কাশির ওষুধি লিকুইড বা কড়া পেইনকিলার কিনে বছরের পর বছর খেয়ে চেপে রাখেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত জীবনঘাতী চিকিৎসাগত ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ওঙ্কোলজি ও টিস্যু প্যাথলজি অনুযায়ী, ধূমপানের বিষাক্ত নিকোটিন, জর্দা, গুল এবং পান-সুপারির কড়া রাসায়নিক ককটেল মুখের ও গলার নরম এপিথেলিয়াল কোষগুলোকে অনবরত পুড়িয়ে সেখানে ম্যালিগন্যান্ট বা ক্ষতিকর টিউমার কোষের জন্ম দেয়।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যারিনগোস্কোপি বা বায়োপসি (Biopsy) পরীক্ষা ছাড়া কেবল ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস বা এন্টাসিড সিরাপ খেয়ে এই তীব্র সতর্ক সংকেত বা অ্যালার্মকে কৃত্রিমভাবে অবশ করে রাখবেন, তখন ভেতরের এই ক্ষতিকর কোষগুলো বিন্দুমাত্র নিরাময় হয় না। উল্টো এটি বাচ্চার বা বড়দের স্বরযন্ত্রের ল ভোকাল কর্ডের (Vocal Cord) নরম মাংসপেশীগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে পুরোপুরি গলিয়ে ফেলে। এর সরাসরি ফলে, কয়েক মাসের মধ্যেই রোগীর শ্বাস নেওয়ার স্বাভাবিক শ্বাসনালীটি টিউমারের ওজনে শতভাগ ব্লক হয়ে যায়, যার ফলে রোগী তীব্র শ্বাসকষ্ট, রক্তের বমি এবং গলার স্বর চিরতরে হারিয়ে ফেলার মতো চূড়ান্ত জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে পতিত হন। তখন কড়া কোনো সার্জারি বা রেডিয়েশন থেরাপি দিয়েও রোগীকে বাঁচানো বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গলার এই মরণব্যাধি থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের মূল্যবান গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে লক্ষণ দেখামাত্রই একজন হেড-নেক সার্জনের অধীনে একটি এফওএল (Flexible Fiberoptic Laryngoscopy) এবং টিস্যু হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষা করিয়ে মূল কোষের গঠন নিখুঁতভাবে লক করার ভেতর। ক্যানসারের আগুন সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করতে আজই এই মুহূর্ত থেকে বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া, জর্দা, গুল ও সাদা পাতা চিবানো শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই মুখের ক্যানসারের প্রধান কাঁচামাল। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা এবং ডুবো তেলে ভাজা প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড সম্পূর্ণ বর্জন করুন। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তাজা দেশী টক ফল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং লিভার সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
গলা বসে গেলে সিগারেট খেতাম, ভাবতাম ঠান্ডা লেগেছে। দুই মাস পর ডাক্তার দেখালাম, তখন ক্যানসার ধরা পড়ল।
জর্দা চিবানো বন্ধ করেছি, লবণ পানিতে কুলকুচি করি। গলার জ্বালাপোড়া অনেক কমেছে।
প্রচুর পানি পান করি, তেলে ভাজা খাবার খাই না। গলার স্বর আগের চেয়ে ভালো।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
