রক্তচাপ বা হাই প্রেশার সামান্য বেশি দেখলেই কি আতঙ্কে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া প্রেশারের বড়ি গিলছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কড়া প্রেশার নাশক বড়ির এই ভুল অপব্যবহার আপনার কিডনি ও হার্টকে স্থায়ীভাবে নিস্তেজ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
রক্তচাপ বা প্রেশার একটু বেশি দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) প্রেশারের বড়ি খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই কড়া কেমিক্যাল ড্রাগস হুট করে বন্ধ করলে রক্তচাপ আকস্মিক লাফিয়ে উঠে ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের কার্ডিওলজি ও সিসিইউ (CCU) জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের (Hypertension) জটিলতায় ভোগা ক্রনিক রোগী আসেন, যারা একবার প্রেশার একটু বেশি দেখেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা শরীরের এন্ডোক্রাইন গ্রন্থিগুলোর সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়াই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া প্রেশার নাশক বড়ি কিনে খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পরিপাক ও হৃদরোগ বিজ্ঞান অনুযায়ী, মানুষের শরীরের রক্তচাপ সাময়িক মানসিক চাপ, পানির অভাব, রাত জাগা বা অতিরিক্ত অলসতার কারণেও সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়তে পারে। কোনো পরীক্ষা ছাড়া এক রাতের প্রেশারের রিডিং দেখে হুট করে সারাজীবনের জন্য ওষুধ লক করা চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত নয়।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক সমীকরণ ছাড়া কড়া কেমিক্যাল প্রেশার ড্রাগস অনবরত সেবন করতে থাকবেন এবং মাঝেমধ্যে ভালো লাগছে মনে করে হুট করে খাওয়া বন্ধ করে দেবেন, তখন রক্তনালীগুলো নিজের স্বাভাবিক সংকোচন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর সরাসরি ফলে, প্রেশার রিবাউন্ড এফেক্ট হয়ে ধমনীর দেওয়ালে রক্তের প্রেশার হঠাৎ বিপজ্জনক সীমায় লাফিয়ে ওঠে। এই আকস্মিক রক্তচাপ মস্তিস্কের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে এক নিমিষে ছিঁড়ে ফেলে প্যারালাইসিস বা ব্রেইন স্ট্রোকের জন্ম দেয়। তাছাড়া, চিকিৎসকের গাইডলাইন ছাড়া ভুল ডোজে বছরের পর বছর প্রেশারের বড়ি খেলে তা রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন কোষগুলোকে স্থায়ীভাবে নিস্তেজ করে দেয়। আমাদের চেম্বারে প্রতিনিয়ত এমন অনেক কিডনি ড্যামেজ হওয়া রোগী আসেন, যাদের এই অবস্থার মূল ট্রিগার হলো ওটিসি প্রেশারের ওষুধের কড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
উচ্চ রক্তচাপ চিরতরে নিয়ন্ত্রণে রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো কড়া রাসায়নিক বড়ির মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো ওটিসি ওষুধের শর্টকাট উপায়ের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্তের লিপিড প্রোফাইল এবং কিডনির সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করিয়ে আপনার প্রেশারের সঠিক ট্রিগার পয়েন্টটি লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে কাঁচা চিনি, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা টেবিল সল্ট, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই রক্তনালীকে শক্ত ও রুক্ষ করে প্রেশার বাড়ায়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন—পাকা কলা, ডাবের পানি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। ধমনীর দেওয়ালে জমে থাকা নতুন চর্বির প্লাকগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্ত পাতলা রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
নিজে নিজে প্রেশারের বড়ি খেয়ে কিডনির সমস্যা হয়েছিল। ডাক্তারের পরামর্শে এখন নিয়ন্ত্রণে।
হাঁটা আর কলা-ডাবের পানি খাওয়া শুরু করেছি, প্রেশার অনেক স্থিতিশীল।
লবণ কমিয়ে হাঁটার অভ্যাস করলাম, ২ মাসে ওষুধের ডোজ কমে গেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
