বয়স পঞ্চাশ পার হতেই কি হাঁটু বা কোমরের তীব্র ব্যথায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছেন না?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া ব্যথানাশক বড়ি খাওয়ার এই শর্টকাট আপনার কিডনি ও পাকস্থলীকে চিরতরে পুড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
বয়স্কদের হাঁটুর হাড়ের ক্ষয় বা Osteoarthritis কোনো পেইনকিলারে কখনো স্থায়ীভাবে জোড়া লাগে না; বরং চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া নিজে নিজে ঘন ঘন কড়া ব্যথানাশক বড়ি খাওয়ার অভ্যাস আপনার পাকস্থলী পুড়িয়ে রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার ও কিডনিকে স্থায়ীভাবে বিকল করে দেয়।
আমাদের অর্থোপেডিক ও হাড়-জোড়া প্রতিস্থাপন ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক জ্যেষ্ঠ বা প্রবীণ রোগী আসেন, যারা দীর্ঘস্থায়ী হাঁটু ব্যথা, কোমর লক হয়ে যাওয়া বা জয়েন্টের তীব্র যন্ত্রণায় সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না। আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে একটি অত্যন্ত প্রচলিত ও ভয়ানক আত্মঘাতী শর্টকাট প্র্যাকটিস কাজ করে যে, বয়স বাড়ার কারণে হাড়ের ক্ষয় বা বাত ব্যথার মেকানিক্যাল কষ্ট শুরু হওয়ামাত্রই তারা ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সরাসরি কাছের ফার্মেসি থেকে কড়া ব্যথানাশক বড়ি বা এনএসএআইডি (NSAIDs যেমন: ডিক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক, নেপ্রোক্সেন বা কিটোরোলাক) ট্যাবলেট কিনে বছরের পর বছর মুড়িমুড়কির মতো খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি মারাত্মক চিকিৎসাগত ক্ষতিকর অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত জয়েন্ট অ্যানাটমি ও প্যাথলজি অনুযায়ী, বয়স পঞ্চাশ পার হওয়ার পর হাঁটুর ভেতরের দুটি হাড়ের মধ্যবর্তী সুরক্ষিত কুশন বা নরম তরুণাস্থি (Cartilage) প্রাকৃতিকভাবেই শুকিয়ে ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। একেই আমরা অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বলি। এর ফলে হাড়ের সাথে হাড়ের মেকানিক্যাল ঘর্ষণ লেগে তীব্র প্রদাহ ও কষা ভাবের সৃষ্টি হয়।
কোনো কেমিক্যাল পেইনকিলার এই ক্ষয়ে যাওয়া হাড়ের পিচ্ছিল ফ্লুইড বা তরুণাস্থিকে পুনরায় তৈরি করতে পারে না। আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা (eGFR/SGPT) ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে অনবরত এই কড়া ব্যথানাশক ড্রাগসগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর সুরক্ষাপ্রাচীরকে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে রক্তবমি ও কালো মলের মারাত্মক ইন্টারনাল ব্লিডিং তৈরি করে এবং কিডনির সূক্ষ্ম ছাঁকনিগুলোকে এক নিমিষে ড্যামেজ করে ক্রনিক কিডনি বিকলতার (CKD) দিকে ঠেলে দেয়।
হাঁটুর ক্ষয় ও বাতের ক্রনিক যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণে রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের মেকানিক্যাল মুভমেন্ট ও ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো চটকদার সাপ্লিমেন্টের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের অধীনে আক্রান্ত জয়েন্টের একটি সাধারণ এক্স-রে (X-ray) এবং রক্তের ইউরিক এসিড পরীক্ষা করিয়ে আপনার সঠিক ওষধি রুটিন লক করুন। হাড়ের প্রদাহ কমাতে খাবার তালিকা থেকে চিনি, ডালডা, ময়দা, অতিরিক্ত লাল মাংস এবং ডুবো তেলে ভাজা প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো ইউরিক এসিড বাড়িয়ে হাড়ের ক্যালসিয়াম দ্রুত গলিয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা জয়েন্টের পিচ্ছিল লুব্রিকেন্ট সচল রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের চারপাশের পেশী শক্তিশালী করতে চিকিৎসকের নির্দেশিত মৃদু ফিজিওথেরাপিউটিক ব্যায়াম (যেমন: Quadriceps Exercise) করুন, মাটিতে নিচে বসা বা হাই কমোড ছাড়া ট্র্যাডিশনাল টয়লেট ব্যবহার সম্পূর্ণ বর্জন করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
হাঁটুর ব্যথায় বছরের পর বছর ডিক্লোফেনাক খেয়েছি। এখন পাকস্থলীতে আলসার ধরা পড়েছে।
ব্যথা কমাতে এখন কোয়াড্রিসেপস ব্যায়াম করি। মাটিতে বসা পুরো বাদ দিয়েছি।
এক্স-রে করিয়ে ডাক্তারের রুটিন মেনে চলছি। খাদ্য তালিকায় ওটস আর আখরোট রেখেছি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
