সকালে ব্রাশ করার সময় কি মাড়ি দিয়ে অনবরত তাজা রক্ত বের হচ্ছে ও মুখ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কেমিক্যাল মাউথওয়াশের এই দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার আপনার দাঁতের গোড়ার হাড়কে চিরতরে গলিয়ে দিচ্ছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া বা ক্রনিক পেরিওডনটাইটিস (Periodontitis) কেবল ওটিসি কড়া মাউথওয়াশ বা পেইনকিলারে কখনো প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ হয় না; বরং চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া এই কেমিক্যাল ব্যবহারের অভ্যাস দাঁতের গোড়ার সুরক্ষিত অ্যালভিওলার হাড় পুড়িয়ে সব দাঁত অকালে নড়িয়ে ফেলে।

আমাদের পেরিওডনটোলজি ও মাড়ির ক্রনিক ইনফেকশন বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক দাঁত নড়ে যাওয়া এবং মাড়ির গভীর পকেটে পুঁজ জমা (Pyorrhea) জটিল ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের দাঁত সুস্থ থাকা সত্ত্বেও গোড়ার হাড় ক্ষয় হয়ে অকেজো হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, আপেল বা শক্ত খাবার কামড়ালে মাড়ি দিয়ে রক্ত আসা, মুখ অনিরুদ্ধ দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া কিংবা মাড়ি নিচের দিকে নেমে গিয়ে দাঁত লম্বা দেখানোর কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা পেরিওডনটিস্টের কাছে যান না। এর বদলে তারা প্রথাগতভাবে ক্ষতিকর ওটিসি কড়া কেমিক্যাল মাউথওয়াশ বা টুথপেস্ট মাসের পর মাস ব্যবহার করেন অথবা নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার বড়ি খেয়ে ভাবেন মাড়ির রোগ সেরে গেছে। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং মুখগহ্বরের অস্থি কাঠামোর সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ওরাল মাইক্রোবায়োলজি ও পেরিওডনটাল প্যাথলজি অনুযায়ী, মাড়ির রক্তপাত কোনো সাধারণ মেকানিক্যাল ক্ষত নয়; এটি হলো দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে জমে থাকা শক্ত পাথুরে ক্যালকুলাস বা ডেন্টাল প্লাক যখন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রধান দুর্গে রূপ নিয়ে মাড়ির নিচের লিগামেন্ট ও অ্যালভিওলার হাড়কে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে নিঃশব্দে ক্ষয় করতে শুরু করে।

কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল মাউথওয়াশ বা পেইনকিলার এই শক্ত হয়ে যাওয়া পাথুরে ক্যালকুলাসকে মেকানিক্যালি রিমুভ না করে ভেতরের ইনফেকশন শান্ত করতে পারে না। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পেরিওডনটাল প্রবিং (Periodontal Probing) পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ড্রাগস অনবরত ব্যবহার করতে থাকবেন, তখন তা মুখের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। এর সরাসরি ক্ষতিকর মেকানিজম হিসেবে, ইনফেকশনটি মাড়ির আরও গভীরে প্রবেশ করে চোয়ালের মজবুত হাড়ের টিস্যুগুলোকে এক নিমিষে পুরোপুরি ড্যামেজ করে দেয়, যা কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে ক্রনিক পেরিওডনটাইটিসের শেষ স্টেজের দিকে ঠেলে দেয় এবং সুস্থ দাঁতগুলো গোড়া থেকে আলগা হয়ে একের পর এক অকালে ঝরে পড়ে।

মাড়ির এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক মেটাবলিক প্রদাহ শান্ত করার এবং হাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল তরলের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং মেটাবলিক ওরাল হাইজিনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন পেরিওডনটিস্টের অধীনে আল্ট্রাসনিক স্কেলিং ও রুট প্ল্যানিং (Root Planing) করিয়ে দাঁতের গোড়ার বিষাক্ত পাথর নিখোঁতভাবে পরিষ্কার করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই মাড়ির ব্যাকটেরিয়ার মূল কাঁচামাল। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা মাড়ির কোলাজেন ফাইবার পুনর্গঠনে সাহায্য করে। মাড়ির রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে ফ্লুরাইড টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করার পাশাপাশি ইন্টারডেন্টাল ফ্লসিং করার ওষধি অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. ফিরোজ মিয়া

ব্রাশ করলেই মাড়ি থেকে রক্ত আসত। মাউথওয়াশ দিয়ে চেপে রাখতাম। এখন জানলাম স্কেলিং দরকার।

নাসরিন সুলতানা

মাড়ি থেকে পুঁজ পড়ত, লজ্জায় ডাক্তার দেখাতাম না। পেরিওডনটিস্টের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।

হাবিবুর রহমান

ফ্লসিং আর লবণ পানিতে কুলকুচি শুরু করেছি। মাড়ির রক্তপাত অনেক কমেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।