দাঁতে কালো গর্ত তৈরি হয়েছে এবং মিষ্টি খাবার খেলেই কি তীব্র কনকন করা ব্যথায় ভুগছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া পেইনকিলারের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার লিভার ও কিডনিকে চিরতরে বিকল করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

দাঁতের ক্ষয় রোগ বা Dental Caries কোনো সাধারণ মেকানিক্যাল ময়লা নয়, এটি মূলত এনামেল ধ্বংসকারী এসিডের ক্ষত; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো গোড়া থেকে সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।

আমাদের কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি ও টুথ কনজারভেশন বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক দাঁতের ক্রনিক ক্ষয় রোগে আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যাদের দাঁতের ওপরের প্রধান সুরক্ষাপ্রাচীর বা এনামেল স্তরটি ব্যাকটেরিয়ার কড়া এসিড মেকানিজমে সম্পূর্ণ গলে বড় গর্তে রূপ নিয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, দাঁতে ছোট কালো দাগ বা গর্ত হওয়া, ঠাণ্ডা পানি বা মিষ্টি খাবার খেলে তীব্র শিরশিরানি কষ্ট শুরু হওয়ামাত্রই তারা কনজারভেটিভ ডেন্টিস্টের কাছে যান না। এর বদলে তারা প্রথাগতভাবে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) কিনে মাসের পর মাস গিলে খেয়ে নেন অথবা ডাক্তারের সুনির্দিষ্ট রক্তের পরীক্ষা ছাড়া ক্ষতিকর ওটিসি ব্যথানাশক বড়ি অনবরত চিবিয়ে খেয়ে ভাবেন দাঁতটি সুস্থ হয়ে গেছে। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং রক্ত সঞ্চালন ও পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ডেন্টাল অ্যানাটমি ও ক্যারোলজি লজিক অনুযায়ী, আমরা প্রতিদিন যে শর্করা বা রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খাই, তা মুখের ভেতরের স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউট্যান্স নামক ব্যাকটেরিয়া ফারমেন্ট করে কড়া ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে, যা দাঁতের ক্যালসিয়াম প্রলেপ পুড়িয়ে ডেন্টাল ক্যারিজের জন্ম দেয়।

কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই ভেতরের এসিডের মেকানিক্যাল ক্ষয় বা ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংসযজ্ঞকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ করতে পারে না। আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল ডেন্টাল এক্স-রে পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত খেতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, ওষুধের অতিরিক্ত কেমিক্যাল রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন নালীগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) জন্ম দেয়। একপর্যায়ে ইনফেকশনটি দাঁতের গভীর মজ্জা বা পাল্প স্তরকে চিরতরে গলিয়ে দিয়ে দাঁতের গোড়ার হাড় পুড়িয়ে ক্রনিক অ্যাপিক্যাল অ্যাবসেস তৈরি করে, যা রোগীকে আজীবনের জন্য জটিল ডেন্টাল সার্জারির মুখে ঠেলে দেয়।

দাঁতের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল ক্ষয় রোগ শান্ত করার এবং এনামেল প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওরাল হাইজিন ও ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ডেন্টিস্টের অধীনে আক্রান্ত দাঁতের একটি ডেন্টাল এক্স-রে পরীক্ষা করিয়ে মূল ক্ষয়ের গভীরতা নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, আঠালো চকলেট এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই মুখের অম্লতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। প্রতিদিন সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে ফ্লুরাইড টুথপেস্ট দিয়ে অন্তত দুই মিনিট নিখুঁতভাবে ব্রাশ করার ওষধি অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. ইব্রাহিম খলিল

দাঁতে কালো দাগ ছিল, অবহেলা করেছিলাম। এখন ফিলিং করিয়ে সুস্থ আছি।

রিনা পারভীন

মিষ্টি খেলেই শিরশির করত। ডেন্টিস্ট দেখিয়েছি। ফিলিং দারুণ কাজ করেছে।

মো. নূর হোসেন

ফ্লুরাইড টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ শুরু করেছি। দাঁতের ক্ষয় কমছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।