হালকা গা গরম বা সিজনাল সর্দি-কাশি হলেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গিলছেন?
সাবধান! এই কড়া কেমিক্যালের ভুল অপব্যবহার আপনার শরীরে সুপারবাগ তৈরি করে জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
সাধারণ ভাইরাল জ্বর বা ঠান্ডা-কাশির জন্য চিকিৎসকের লিখিত প্রেসক্রিপশন ও পরীক্ষা ছাড়া হুটহাট যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics) বড়ি খাওয়া শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মারাত্মক 'Superbug' তৈরি করে, যা পরবর্তীতে যেকোনো সাধারণ ইনফেকশনেও মৃত্যুকে ডেকে আনে।
আমাদের সংক্রামক ব্যাধি ও অভ্যন্তরীণ মেডিসিন বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক জটিল ইনফেকশনের রোগী আসেন, যাদের শরীরে কোনো সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক তো দূরের কথা, হাসপাতালের শেষ স্তরের কড়া আইভি (IV) অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশনও বিন্দুমাত্র কাজ করছে না। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভয়ানক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, সিজনাল ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি-কাশি বা যেকোনো মৃদু জ্বর শুরু হওয়ামাত্রই তারা ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সরাসরি ফার্মেসি থেকে কড়া অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন: অ্যাজিথ্রোমাইসিন, সেফিক্সিম বা সিপ্রোফ্লক্সাসিন) ক্যাপসুল কিনে খাওয়া শুরু করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত মাইক্রোবায়োলজি অনুযায়ী, আমাদের চারপাশের ৮০ শতাংশ সিজনাল জ্বর ও ঠান্ডা-কাশি মূলত ভাইরাসজনিত কারণে (Viral Infection) ঘটে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য, ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কোনো কার্যকারিতা নেই।
আপনি যখন কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের প্রমাণ ছাড়াই হুটহাট কড়া অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগস সেবন করবেন, তখন এই ড্রাগটি ভাইরাসের কোনো ক্ষতি করতে না পেরে উল্টো আপনার অন্ত্র বা পেটের ভেতরে থাকা শরীরের আজীবনের পরম বন্ধু উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে মেরে ফেলে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, আপনার শরীরে যদি সামান্যতম কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে থাকে, তবে সে এই ওষুধের অপূর্ণাঙ্গ ডোজ বা ভুল প্রয়োগের কারণে ওই নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের ফর্মুলা চিনে ফেলে নিজের জিনগত মিউটেশন বা রূপান্তর ঘটিয়ে ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স' (Antibiotic Resistance) বলা হয়। এর ফলে ওই ব্যাকটেরিয়াটি এমন এক অবিনশ্বর দানব বা 'সুপারবাগ' (Superbug)-এ পরিণত হয়, যাকে মারার মতো কোনো চাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানে আর অবশিষ্ট থাকে না। পরবর্তীতে সাধারণ টাইফয়েড, মূত্রনালীর ইনফেকশন বা ফুসফুসের মৃদু নিউমোনিয়া হলেও কোনো ওষুধ কাজ না করায় রোগী খুব দ্রুত মাল্টি-অর্গান ফেইলিওরের দিকে চলে যান।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের এই বৈশ্বিক মহামারী থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো—চিকিৎসকের রেজিস্টার্ড প্রেসক্রিপশন ছাড়া যেকোনো কড়া কেমিক্যাল ক্যাপসুল সেবন সম্পূর্ণ বর্জন করা। সিজনাল সর্দি-জ্বর শুরু হলে প্যানিকড না হয়ে প্রথম ৩ থেকে ৫ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। শরীরকে ভেতর থেকে টক্সিনমুক্ত ও হাইড্রেটেড রাখতে এবং মেটাবলিজম সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ১২ থেকে ১৫ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন। রক্তের লিম্ফোসাইট বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় করতে আদা-লবঙ্গ চা পানের ওষধি অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকী, পেয়ারা ও লেবুর রস রাখুন। যদি ৪-৫ দিনেও জ্বরের তীব্রতা না কমে, তবে নিজে নিজে ফার্মেসির ওষুধ না খেয়ে অবিলম্বে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন এবং রক্তের সিবিসি (CBC) বা কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসকের নির্দেশিত সুনির্দিষ্ট দিন বা মেয়াদের কোর্স শতভাগ সম্পূর্ণ করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
সর্দি হলেই অ্যাজিথ্রোমাইসিন খেতাম। ডাক্তার বললেন এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়ে গেছে, এখন কোনো ওষুধ কাজ করছে না। ভয়ানক অভিজ্ঞতা।
ছেলেমেয়েদের জ্বর হলেই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে দিতাম। এই আর্টিকেল পড়ে বুঝলাম কত বড় ভুল করতাম।
সুপারবাগের কথা আগে কখনো শুনিনি। এখন আর নিজে নিজে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাই না। সবাইকে জানানো দরকার।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
