পরিবারের বয়স্ক সদস্য কি চেনা নাম বা ঠিকানা ভুলে যাচ্ছেন? মেজাজ খিটখিটে দেখে ওটিসি ঘুমের বড়ি খাওয়াচ্ছেন কি?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া সিডেটিভের এই কৃত্রিম ওভারডোজ প্রবীণদের মস্তিস্কের অবশিষ্ট স্মৃতিশক্তিকে চিরতরে ধ্বংস করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

প্রবীণদের অকাল স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া (Dementia) কেবল ল্যাবরেটরির কৃত্রিম ঘুমের বড়ি খাওয়ালে কখনো শান্ত হয় না; বরং চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি সিডেটিভ অনবরত দেওয়ার অভ্যাস মস্তিস্কের সুস্থ নিউরন পুড়িয়ে বার্ধক্যের পঙ্গুত্বকে আরও দ্রুত ত্বরান্বিত করে।

আমাদের জেরিয়াট্রিক সাইকিয়াট্রি ও প্রবীণ মানসিক স্বাস্থ্য ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক আলঝেইমার্স (Alzheimer's) ও দীর্ঘস্থায়ী মেটাবলিক ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত প্রবীণ রোগী আসেন, যাদের মস্তিস্কের স্বাভাবিক হরমোনাল সিগন্যাল ও কগনিটিভ নেটওয়ার্ক ভুল প্র্যাকটিসের প্রভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবারের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত ভুল চিকিৎসাগত ধারণা প্রচলিত আছে যে, বয়স ষাট বা সত্তর পার হওয়ার পর বাবা-মায়ের অনবরত একই কথা বারবার বলা, পরিচিত মানুষের নাম হঠাৎ ভুলে যাওয়া, রাতে বিছানা থেকে উঠে উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটা বা খিটখিটে ব্যবহার করাকে সাধারণ বুড়ো বয়সের স্বভাব মনে করে এড়িয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের জোর করে ঘুমানোর জন্য ওটিসি কড়া ঘুমের ট্যাবলেট অনবরত খাওয়ানো হয়। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত আত্মঘাতী এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরো-অ্যানাটমি ও সাইকিয়াট্রি অনুযায়ী, ডিমেনশিয়া কোনো স্বাভাবিক বার্ধক্য নয়; এটি হলো মস্তিস্কের স্মৃতি নিয়ন্ত্রণকারী হিপোক্যাম্পাস অঞ্চলে 'অ্যামাইলয়েড প্লাক' (Amyloid Plaque) নামক এক ক্ষতিকর প্রোটিন বা চর্বি জমে সুস্থ স্নায়ুকোষ ও এসিটাইলকোলিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার এক জটিল বহিঃপ্রকাশ।

আপনি যখন কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট সাইকোমেট্রিক পরীক্ষা (যেমন: MMSE) বা রক্তের বিপাকীয় চার্ট না জেনে প্রবীণদের শান্ত রাখার অন্ধ মোহে কড়া সিডেটিভ বড়ি অনবরত সেবন করাবেন, তখন তা মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চালনকে প্রাকৃতিকভাবেই এক নিমিষে পুরোপুরি স্তব্ধ ও অবশ করে ফেলে। এর সরাসরি ক্ষতিকর ফলস্বরূপ, ওষুধ বন্ধ করামাত্রই মস্তিস্ক নিজের স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে চরম মেটাবলিক শক ও তীব্র ডেলিরিয়ামের (Delirium) জন্ম দেয়। দীর্ঘকাল এই কড়া কেমিক্যালের অপব্যবহারের কারণে মস্তিস্কের সুস্থ জীবন্ত টিস্যুগুলো অ্যাসিডের মতো পুড়ে প্রাকৃতিকভাবেই সংকুচিত বা শুকিয়ে (Brain Atrophy) ছোট হয়ে যায়, যা রোগীকে এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় লিভার ও কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে ঠেলে দেয়।

প্রবীণদের স্মৃতিশক্তি সচল রাখা এবং ডিমেনশিয়ার গতি প্রাকৃতিকভাবে ধীর করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল মেগাডোজের মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস ও কগনিটিভ স্টিমুলেশন থেরাপির সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে বয়স্কদের খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো মস্তিস্কের প্রদাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা মস্তিস্কের কোষের সুরক্ষাপ্রাচীর পুনর্গঠনে প্রধান চাবি হিসেবে কাজ করে। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

ফারহানা আক্তার

আব্বাকে ওটিসি ঘুমের বড়ি খাওয়াতাম। ডাক্তার বললেন স্মৃতিশক্তি আরও খারাপ হচ্ছে। এখন CBT থেরাপি শুরু করেছি।

মো. রফিকুল ইসলাম

মায়ের আলঝেইমার্স ধরা পড়েছে। এই গাইড পড়ে বুঝলাম আগে কেন ভুল করতাম। ওমেগা-৩ খাওয়া শুরু করেছি।

নাসরিন সুলতানা

বাবা রাতে উঠে হাঁটতেন। বড়ি খাওয়াতাম। এখন ডাক্তারের গাইডলাইনে আছি। অনেক উন্নতি হয়েছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।