কোমর থেকে তীব্র মোচড়ানো ব্যথা পায়ের পাতা পর্যন্ত নামছে এবং পা কি অবশ হয়ে আসছে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া পেইনকিলারের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার লিভার ও কিডনিকে চিরতরে বিকল করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

মেরুদণ্ডের পিএলআইডি (PLID) বা সাইয়াটিকা রোগের তীব্র পিনফোটা যাতনা কোনো সাধারণ মাংসপেশীর কষা ভাব নয়, এটি মেকানিক্যাল স্নায়ুর ক্ষত; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো গোড়া থেকে সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।

আমাদের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও পিএলআইডি পুনর্বাসন বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক কোমর ব্যথা ও পায়ের অসাড়তায় আক্রান্ত জটিল ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার মধ্যবর্তী নরম জেলি বা ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কটি ভুল মেকানিক্যাল চাপের চোটে ফেটে বাইরে বের হয়ে প্রধান সাইয়াটিক স্নায়ুকে অনবরত ঘর্ষণ ও প্রদাহ তৈরি করছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, কোমর থেকে ব্যথা পায়ের নিচের দিকে নামা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পা অবশ অবশ লাগা কিংবা বসার সময় পিঠের মাংশপেশীতে কামড়ানো কষ্ট অনুভব হওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) কিনে মাসের পর মাস মুড়িমুড়কির মতো গিলে খেতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং মুখমণ্ডল ও কঙ্কালতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত মেরুদণ্ড অ্যানাটমি ও নিউরো-মেকানিক্স অনুযায়ী, ডিস্কের স্থানচ্যুতি কোনো কেমিক্যালের সাময়িক ঘাটতি নয়; এটি হলো ভুল জীবনযাত্রার কারণে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত প্রেশার পড়া।

কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই স্থানচ্যুত ডিস্কের মেকানিক্যাল কম্প্রেশনকে টেনে প্রাকৃতিকভাবে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারে না। আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট এমআরআই (MRI) পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত খেতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, ওষুধের অতিরিক্ত কেমিক্যাল রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন নালীগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) জন্ম দেয়, যার ফলে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব ও ডায়ালাইসিস স্টেজের মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে ঠেলে দেয়।

মেরুদণ্ডের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল প্রদাহ শান্ত করার এবং হাড়ের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং থেরাপিউটিক ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের অধীনে কটিদেশের একটি এমআরআই পরীক্ষা করিয়ে মূল ড্যামেজ লেভেল নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো হাড়ের প্রদাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা হাড়ের ডেনসিটি বাড়াতে সাহায্য করে। মেরুদণ্ডের পেশী সচল রাখতে দীর্ঘক্ষণ একটানা ঝুঁকে বসার কুঅভ্যাস ত্যাগ করে প্রতি ৪০ মিনিট পর পর উঠে দাঁড়ানোর ওষধি সোজা ভঙ্গি মেইনটেইন করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. শাহাবুদ্দিন

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা নামত। পেইনকিলার খেতাম। এখন জানলাম এমআরআই দরকার।

সালমা খাতুন

পা অবশ হয়ে আসত। নিজে নিজে ওষুধ খেতাম। এখন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নিই।

আবদুল করিম

প্রতি ৪০ মিনিটে উঠে দাঁড়ানোর অভ্যাস করলাম। সাইয়াটিকা ব্যথা অনেক কমেছে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।