ধুলোবালি বা ঠান্ডার ছোঁয়া লাগলেই কি অনবরত হাঁচি আসছে এবং নিজে নিজে কড়া অ্যালার্জির স্প্রে মারছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি স্টেরয়েড স্প্রের এই দীর্ঘমেয়াদী অপব্যবহার আপনার নাকের ভেতর স্থায়ী ক্ষত বা রক্তপাত তৈরি করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
আবহাওয়ার পরিবর্তনে অনবরত হাঁচি বা তীব্র নাকের অ্যালার্জির যন্ত্রণায় চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া স্টেরয়েড ন্যাজাল স্প্রে অনবরত ব্যবহার করা এক ভয়ানক ভুল; কারণ এই হরমোনাল কেমিক্যাল নাকের মিউকোসা পুড়িয়ে স্থায়ী ক্ষত ও রক্তপাত তৈরি করে।
আমাদের নাক, কান ও গলা এবং ইএনটি অ্যালার্জি বিশেষায়িত ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক শ্বাসনালীর ক্রনিক হাইপার-রেসপন্সে আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যাদের নাকের মধ্যবর্তী সুরক্ষাপ্রাচীর বা সেপ্টাম আস্তরণটি অনবরত ভুল কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহারের তীব্র হরমোনাল দহনে স্থায়ীভাবে খসখসে ও শুষ্ক হয়ে রক্তপাতের (Epistaxis) শিকার হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ধুলাবালি, স্যাঁতসেঁতে ঘরের ধোঁয়া বা এসির ঠাণ্ডা বাতাসে সামান্য নাক চুলকানো, অনবরত চোখ-নাক দিয়ে জলীয় তরল ঝরা বা শ্বাসনালীর কষা ভাব দেখা দেওয়ামাত্রই তারা চর্মরোগ বা বাতের মতো অবহেলা করে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া স্টেরয়েড ন্যাজাল স্প্রে (যেমন: ফ্লুটিকাসন বা মোমেটাসন যুক্ত স্প্রে) কিনে বছরের পর বছর নাকে মারতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত শ্বাসনালী অ্যানাটমি ও ইমিউনোলজি অনুযায়ী, এই হরমোনাল স্প্রেগুলো নাকের ভেতরের অতি-সংবেদনশীল ইমিউন কোষগুলোর সাড়াকে সাময়িকভাবে অবশ করে প্রদাহ ও ফোলা ভাব নিমিষেই কমিয়ে দেয়।
কিন্তু আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (যেমন: রক্তের Absolute Eosinophil Count বা Total IgE) ছাড়া স্প্রে মারার সঠিক বৈজ্ঞানিক ডিরেকশন বা কোণ না জেনে অনবরত এই কড়া কেমিক্যাল নাকে পুশ করবেন, তখন ওই স্প্রে-র কড়া কণাগুলো সরাসরি নাকের মাঝখানের পাতলা সেপ্টাম হাড়ের ওপর আঘাত করতে থাকে। এর সরাসরি লোকাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে, নাকের অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে থাকা সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোর জালের মতো বিন্যাস (Kiesselbach's Plexus) অ্যাসিডের মতো পুড়ে স্থায়ীভাবে ভঙ্গুর হয়ে যায়। একপর্যায়ে নাকের ভেতরের চামড়া ছিঁড়ে গভীর ক্ষত ও পচনশীল ক্রাস্ট (Crusting) তৈরি হয়, যার ফলে সামান্য হাঁচি বা নাক ঝাড়লেই অনবরত তাজা রক্তপাত শুরু হয় এবং নাকের নরম তরুণাস্থি হাড়টি গলে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসে যাওয়ার মতো চূড়ান্ত জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটের জন্ম দেয়।
নাকের এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক অ্যালার্জিক প্রদাহ শান্ত করার এবং শ্বাসনালীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল স্প্রের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন ইএনটি অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের অধীনে একটি সঠিক অ্যান্ডোস্কোপি পরীক্ষা করিয়ে অ্যালার্জির মূল উৎস নিখুঁতভাবে লক করুন। ইনফ্লেমেশন ও অ্যালার্জি কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত অতিরিক্ত ঠান্ডা আইসক্রিম বা কোল্ড ড্রিংকস শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো শ্বাসনালীর চারপাশের হাইপার-রেসপন্সকে বহুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। কানের বা নাকের ভেতরের কষা শ্লেষ্মা প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে পরিষ্কার করতে প্রতিদিন অন্তত দুবার মৃদু গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন (Steam Inhalation) নিন, শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
নাকে অ্যালার্জি হলেই স্টেরয়েড স্প্রে মারতাম। একপর্যায়ে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করল।
ডাক্তারের পরামর্শে অ্যালার্জি টেস্ট করিয়েছি। এখন স্টিম নেই, ঠান্ডা খাই না। নাকের রক্তপাত বন্ধ।
ধুলোবালি এড়াতে মাস্ক পরি, প্রচুর পানি খাই। হাঁচি ও নাক চুলকানি অনেক কমেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
