হঠাৎ হাত-পা অস্বাভাবিক কাঁপলে বা খিঁচুনি হলে কি জিন-ভূতের আসর মনে করে ওটিসি ঘুমের বড়ি খাওয়াচ্ছেন?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কেমিক্যালের এই ভুল প্রয়োগ আপনার সন্তানের নরম মস্তিস্কের স্নায়ুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
হঠাৎ হাত-পা অতিরিক্ত কাঁপুনি বা মৃগী রোগের (Epilepsy) খিঁচুনি শুরু হওয়ামাত্রই চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া ঘুমের বড়ি খাওয়ানো এক জীবনঘাতী ভুল; কারণ মস্তিস্কের নিউরনের এই ইলেকট্রিকাল ঝড় ঘুমের বড়িতে কখনো থামে না বরং বাচ্চার মস্তিস্ককে চিরতরে অবশ করে দেয়।
আমাদের ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি ও এপিলেপসি বিশেষায়িত ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক অনিয়মিত মেটাবলিক ও স্নায়বিক জটিলতায় ভোগা ক্রনিক রোগী আসেন, যারা মৃগী রোগের তীব্র খিঁচুনি বা হাত-পায়ের অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনির সমস্যায় তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভয়ানক ও প্রতিষ্ঠিত কুসংস্কার কাজ করে যে, বাচ্চার হঠাৎ চোখ উল্টে গিয়ে মুখ দিয়ে ফেনা উঠে খিঁচুনি শুরু হলে বা পার্কিনসন্সের (Parkinson's) মতো হাত-পা কাঁপলে তারা একে জিন-ভূতের আসর মনে করে ওঝার কাছে যান, জুতো শুকানো বা কড়া লোহার চাবি হাতের তালুতে চেপে ধরে থাকেন। এই অন্ধ মোহের পর তারা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া ঘুমের বড়ি কিনে রোগীকে জোর করে খাইয়ে দেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরো-ফিজিওলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, মৃগী রোগ বা এপিলেপসি কোনো অলৌকিক অভিশাপ নয়; এটি হলো মস্তিস্কের জীবন্ত নিউরন কোষগুলোর ভেতরের স্বাভাবিক ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল যখন হঠাৎ এক সেকেন্ডে ওলটপালট হয়ে তীব্র বৈদ্যুতিক ঝড়ের সৃষ্টি করে।
কোনো ওটিসি ঘুমের বড়ি এই ভেতরের নিউরনের অনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক তরঙ্গকে শান্ত করতে পারে না। আপনি যখন কোনো নিউরোলজিস্টের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া ভুল ডোজে কড়া কেমিক্যাল ঘুমের ওষুধ অনবরত বাচ্চার শরীরে পুশ করবেন, তখন তা মস্তিস্কের রেসপন্সকে কৃত্রিমভাবে অবশ করে হৃদস্পন্দন ধীর করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে তীব্র মেটাবলিক এসিডোসিসের সৃষ্টি হয়, যা মস্তিস্কের সুস্থ কোষগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে চিরতরে মরে যাওয়ার দিকে ঠেলে দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস' (Status Epilepticus) বা স্থায়ী ব্রেইন ড্যামেজ বলা হয়, যা রোগীকে ডায়াবেটিক কোমায় নিয়ে জীবনকে চিরতরে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয়।
মৃগী রোগের খিঁচুনি ও পার্কিনসন্সের এই ভয়ানক স্নায়বিক প্রদাহ শান্ত করার এবং মস্তিস্কের কোষ সুরক্ষার প্রধান চাবি লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ওষুধের অন্ধ মোহের পেছনে গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে একজন নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের অধীনে মস্তিস্কের একটি সুনির্দিষ্ট ইইজি (EEG) এবং এমআরআই (MRI) পরীক্ষা করিয়ে মূল স্নায়বিক ডিসঅর্ডারটি নিখুঁতভাবে লক করার ভেতর। খিঁচুনি শুরু হওয়ামাত্রই রোগীকে শক্ত মেঝেতে একপাশে কাত (Left Lateral Position) করে শুইয়ে দিন, যাতে মুখের লালা শ্বাসনালীতে না আটকে ফুসফুস সচল থাকে। গলার চারপাশের কাপড়ের কষা বাটন আলতো করে লুজ করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো স্নায়ুর উত্তেজনা বহুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ছেলের খিঁচুনি হলে ওঝার কাছে নিয়ে যেতাম। এখন ডাক্তার দেখিয়ে EEG করিয়ে সঠিক চিকিৎসা করাচ্ছি।
বাবার পার্কিনসন্সের কাঁপনি দেখে ঘুমের বড়ি দিয়েছিলাম। পরে জানি সেটা বিপজ্জনক। নিউরোলজিস্টের পরামর্শ জরুরি।
খিঁচুনি শুরু হলে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিতে হয়, এটা ডাক্তারের কাছে শিখেছি। পরিবারের সবাইকে জানিয়েছি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
