সকালবেলা ঘুম থেকে উঠলেই কি কোমর ও মেরুদণ্ড শক্ত হয়ে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ব্যথায় সোজা হতে পারছেন না?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া পেইনকিলার বড়ি খাওয়ার এই শর্টকাট আপনার লিভার ও কিডনিকে চিরতরে বিকল করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
তরুণদের মেরুদণ্ড শক্ত হয়ে যাওয়ার ক্রনিক বাত রোগ বা Ankylosing Spondylitis কোনো সাধারণ মেকানিক্যাল কোমর ব্যথা নয়, এটি গভীর অটো-ইমিউন প্রদাহ; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।
আমাদের রিউমাটোলজি ও বাতের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ নিরাময় ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক তরুণ ও যুবক রোগী আসেন, যাদের মেরুদণ্ড ও শ্রোণীবলয়ের জয়েন্টগুলো (Sacroiliac Joints) তীব্র প্রদাহের কারণে বাঁশ বা লাঠির মতো সোজা শক্ত (Bamboo Spine) হয়ে গেছে এবং তারা ঘাড় বা কোমর বিন্দুমাত্র বাঁকাতে পারেন না। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, কুড়ি বা ত্রিশ বছর বয়সের তরুণদের শেষ রাতের দিকে তীব্র কোমর ব্যথা শুরু হওয়া কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠে কোমর শক্ত হয়ে লক (Morning Stiffness) থাকার কষ্টকে সাধারণ ড্রাইভ বা বসার অলসতার মেকানিক্যাল ক্লান্তি মনে করে দীর্ঘকাল অবহেলা করা হয় এবং রোগীরা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার গিলে খেয়ে নেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার রিউমাটোলজি ও অটো-ইমিউনোলজি অনুযায়ী, এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস হলো শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম যখন পথভ্রষ্ট হয়ে নিজের সুস্থ মেরুদণ্ডের কশেরুকা ও লিগামেন্টকে অনবরত আক্রমণ করে পুড়িয়ে দেয়।
কোনো রাসায়নিক পেইনকিলার এই ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী অটো-ইমিউন ধ্বংসযজ্ঞ বা জিনের ত্রুটিকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ করতে পারে না। আপনি যখন কোনো রিউমাটোলজিস্টের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগসগুলো অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণযুক্ত আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, এই অতিরিক্ত ওষুধের বিষক্রিয়া রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন নালীগুলোকে সরাসরি ড্যামেজ করে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) জন্ম দেয়, যা রোগীকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।
মেরুদণ্ডের এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ শান্ত করার এবং স্পাইনের নমনীয়তা প্রাকৃতিকভাবে রক্ষা করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে একজন রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞের অধীনে মেরুদণ্ডের এক্স-রে বা এমআরআই (MRI) এবং রক্তের এইচএলএ-বি২৭ (HLA-B27) জিনেটিক মার্কার পরীক্ষা করিয়ে বাতের আসল রূপ নিখুঁতভাবে লক করার ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো বাতের আগুন বা ইনফ্লেমেশনকে বহুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও চিয়া সিড খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা জয়েন্টের ভেতরের কষা ভাব প্রাকৃতিকভাবেই হালকা করে। মেরুদণ্ডের হাড় জোড়া লেগে যাওয়া ঠেকাতে চিকিৎসকের নির্দেশিত বিশেষ স্ট্রেচিং ও ব্রিদিং ব্যায়াম প্রতিদিন নিয়ম মেনে করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
কোমর ব্যথায় নিজে নিজে পেইনকিলার খেতাম। এখন পেটে আলসার হয়েছে, রক্তও গেছে।
এইচএলএ-বি২৭ পরীক্ষা করিয়ে রিউমাটোলজিস্টের কাছে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। সকালের শক্ত ভাব অনেক কমেছে।
রোজ স্ট্রেচিং আর ব্যায়াম করি, জাঙ্ক ফুড ছেড়ে দিয়েছি। কোমরের কষা ভাব কমে এসেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
