রাতারাতি স্কিন গ্লো বা ফর্সা করার কড়া কেমিক্যাল ক্রিম মাখছেন? আপনার ত্বক কি আসলেই সুরক্ষিত?

নাকি সাময়িক উজ্জ্বলতার আড়ালে আপনার অজান্তেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

বাজারের চটকদার কোনো Whitening Cream বা পার্লারের Chemical Bleaching রাতারাতি গায়ের রং ফর্সা করতে পারে না; বরং এগুলোতে থাকা কড়া মার্কারি ও স্টেরয়েড ত্বকের উপরিভাগের চামড়া পাতলা করে চিরতরে স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের স্কিন ও লেজার সেন্টারে প্রতি সপ্তাহে এমন অসংখ্য নারী ও পুরুষ রোগী আসেন, যারা স্কিন গ্লো বাড়ানোর জন্য কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি বা কসমেটিকসের দোকান থেকে কড়া ফেয়ারনেস ক্রিম কিনে মুখে মাখছেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, মানুষের গায়ের স্বাভাবিক রঙ বা গায়ের লাবণ্য মূলত জিনেটিক্স এবং মেলানিন (Melanin) হরমোনের ওপর নির্ভর করে। কোনো নাইট ক্রিম বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট রাতারাতি এই মেলানিনের গঠন বদলে দিতে পারে না। বাজারে পাওয়া যাওয়া বেশিরভাগ সস্তা ফর্সা হওয়ার ক্রিমে উচ্চ মাত্রায় হাইড্রোকুইনন, মার্কারি এবং ক্লোবেটাসল প্রোপিওনেট নামক ক্ষতিকর স্টেরয়েড মেশানো থাকে।

আপনি যখন এই ক্রিমগুলো মুখে নিয়মিত মাখবেন, তখন এটি আপনার ত্বকের স্বাভাবিক মেলানিন তৈরি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং চামড়ার প্রধান সুরক্ষাবলয়কে পুড়িয়ে পাতলা করে ফেলে। এর সরাসরি ফলস্বরূপ, সাময়িকভাবে ফেস কিছুটা ব্রাইট মনে হলেও কিছুদিন পরেই ত্বক নিজের স্বাভাবিক ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে। রোদ বা চুলার আগুনের গরমে গেলে মুখ অতিরিক্ত লাল হয়ে যায়, চামড়ার নিচে সূক্ষ্ম রক্তনালী দেখা দিতে শুরু করে এবং মুখে জেদি মেছতা বা পিগমেন্টেশনের (Hyperpigmentation) সৃষ্টি হয়।

আমার ওষধি পরামর্শ হলো—ত্বকের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে তার সুস্থতার মধ্যে, রঙের উজ্জ্বলতায় নয়। অনেক সময় রোগীরা ভাবেন কসমেটিকস দোকানে পাওয়া 'সুপরিচিত ব্র্যান্ড' বা অনলাইন লাইভ দেখে কেনা 'অর্গানিক বুস্টার ক্রিম' হয়তো শতভাগ নিরাপদ। এটি একটি মারাত্মক এবং ক্ষতিকর প্রচলিত ভ্রম। এই পারদ বা সোডিয়াম মিশ্রিত কেমিক্যাল ককটেলগুলো সরাসরি ত্বকের ডার্মিস লেয়ারের মেলানোসাইট কোষকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এই কড়া কেমিক্যাল রক্তের প্রবাহে মিশে গিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ মেটাবলিক সিস্টেমকে বিষাক্ত করে তোলে, যা লিভারের স্থায়ী মেদ ও ক্রনিক কিডনি ড্যামেজের মতো জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকট তৈরি করে।

রাতারাতি ফর্সা হওয়ার চটকদার বিজ্ঞাপন বা কেমিক্যাল ব্লিচিং সম্পূর্ণ বর্জন করুন। প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে একটি ভালো কোয়ালিটির সানস্ক্রিন (Sunscreen) ব্যবহার করুন, নিয়মিত মুখ ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে ডিটক্স করুন এবং হাইড্রেটেড থাকতে তাজা দেশী ফলমূল ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ বাদাম প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর ও ত্বককে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত রাখতে দিনে অন্তত ১২ থেকে ১৫ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

রুবাইয়াত হোসেন

ফেয়ারনেস ক্রিম মাখতাম, সাময়িক ফর্সা হতো কিন্তু পরে মুখ লাল হয়ে যেত। এখন সানস্ক্রিন আর ভালো খাবার খাই, ত্বক স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল।

নাজনীন সুলতানা

বোনের বিয়ের আগে ফর্সা হওয়ার জন্য কড়া ক্রিম কিনেছিলাম। এই আর্টিকেল পড়ে বুঝলাম ভুল করছি। এখন শুধু সেরামাইড ক্রিম আর সানস্ক্রিন ব্যবহার করি।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।