মুখের কাঁচা ব্রণ নখ দিয়ে খুঁটলে বা জোর করে গলালে কি দ্রুত সেরে যায়? ব্যাপারটা কি আসলে এমন?

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত এই ধারণাটি কি আসলেও সত্যি, নাকি এটি শুধুই এক মারাত্মক প্রচলিত ভ্রম?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

মুখের কাঁচা ব্রণ নখ দিয়ে খুঁটলে বা জোর করে গলালে তার ভেতরের পুঁজ ও ব্যাকটেরিয়া ত্বকের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে নতুন আরও এক ঝাঁক ব্রণের জন্ম দেয়। এই ভুলের কারণে ব্রণের সাধারণ দাগ স্থায়ীভাবে গভীর গর্তে রূপান্তর হয়, যা লেজার ছাড়া ভালো করা অসম্ভব।

আমাদের চেম্বারে প্রতিদিন এমন অনেক তরুণ-তরুণী আসেন, যারা মুখে একটি বা দুটি ব্রণ দেখা দেওয়ামাত্রই প্যানিকড হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নখ দিয়ে তা খুঁটতে শুরু করেন বা জোর করে ভেতরের পুঁজ বের করার চেষ্টা করেন। এটি আমাদের দেশের একটি অত্যন্ত বহুল প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত ভুল রূপচর্চা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সত্য হলো, ব্রণের মুখে যখন আপনি নখ বা হাত দেবেন, তখন আপনার হাতের নখে থাকা হাজারো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ক্ষতের ভেতরে ঢুকে যায়। জোরপূর্বক অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার কারণে ব্রণের ভেতরের সংবেদনশীল দেয়ালটি ভেঙে যায় এবং ভেতরের ইনফেকশন বা পুঁজ ত্বকের নিচের গভীর স্তরে (Dermis Layer) ছড়িয়ে পড়ে। এর সরাসরি ফলে, ব্রণের চারপাশের সুস্থ লোমকূপগুলোও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং হুট করে পুরো মুখ জুড়ে অসংখ্য নতুন তীব্র ব্রণের সৃষ্টি হয়।

অনেকেই ভাবেন কাঁচা ব্রণ বা পিম্পল (Pimple) চেপে ভেতরের শক্ত সাদা দানা বা সেবাম বের করে দিলে ত্বক দ্রুত মসৃণ হয়ে যাবে। এটি একটি মারাত্মক এবং ক্ষতিকর প্রচলিত ভ্রম। এই জোরপূর্বক নখের আঘাতের কারণে ত্বকের ভেতরের টিস্যু বা ইলাস্টিন নেটওয়ার্ক স্থায়ীভাবে ছিঁড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'পোস্ট-ইনফ্লেমেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন' ও 'অ্যাকনে স্কার' বা স্থায়ী গর্ত বলা হয়। এই স্থায়ী গর্ত কোনো সাধারণ ক্রিম, ঘরোয়া টোটকা বা ওষধি উপাদানে আর কখনো নিচ থেকে ভরাট হয় না।

ব্রণের আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান হলো—ব্রণে ভুলেও হাত না দেওয়া। ব্রণের মুখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্যালিসিলিক এসিড বা বেনজাইল পারক্সাইড যুক্ত কসমেসিউটিক্যালস জেল আলতো করে ছুঁইয়ে দিন, যা সেবাম বা অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রণকে প্রাকৃতিকভাবেই শুকিয়ে দেবে। দিনে অন্তত দুবার একটি মৃদু নন-ফোমিং ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখুন। ক্ষতের তীব্র শুষ্কতা দূর করতে ওয়াটার-বেসড হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এবং ত্বকের সুস্থ কোলাজেন ফাইবার ধরে রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। খাবারে চিনি, চকলেট ও ডুবো তেলে ভাজা ফাস্টফুড সম্পূর্ণ বর্জন করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

ফারহানা আক্তার

আমি ছোটবেলা থেকে ব্রণ দেখলেই নখ দিয়ে খুঁটতাম। এখন গালে দুটো গভীর গর্ত হয়ে গেছে। ডাক্তার স্যারের কথা আগে জানলে এত বড় ক্ষতি হতো না।

রাফি আহমেদ

স্যালিসিলিক এসিড জেল ব্যবহার শুরু করেছি, ২ সপ্তাহে ব্রণ শুকিয়ে যাচ্ছে। আগে কেন এই নিয়ম কেউ বুঝিয়ে বলেনি!

নুসরাত জাহান

ছেলেমেয়েরা ইউটিউব দেখে নিজে নিজে ব্রণ গলায়। এই আর্টিকেলটা ওদের দেখান, অনেক উপকার হবে।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।