কাঁধ জ্যাম হয়ে হাত ওপরে তুলতে তীব্র কষ্ট হচ্ছে কিংবা হাঁটুতে কি অনবরত মোচড়ানো ব্যথা হচ্ছে?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া পেইনকিলার ও ইনজেকশনের এই অন্ধ ব্যবহার আপনার জয়েন্টের ক্ষয়কে চিরতরে বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ফ্রোজেন শোল্ডারের কষা ভাব বা হাঁটুর তীব্র অস্টিওআর্থ্রাইটিস কোনো সাধারণ ইনফেকশন নয়, এটি মেকানিক্যাল স্ট্রাকচারাল ক্ষয়; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া কড়া বড়ি খেলে তা কিডনি বিকল করে দেয়।
আমাদের অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন ও পেইন ম্যানেজমেন্ট বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক কাঁধ লক হয়ে যাওয়া (Frozen Shoulder), হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি এবং দীর্ঘস্থায়ী বাতের যন্ত্রণায় আক্রান্ত ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের জয়েন্টের ভেতরের কড়া তরল বা তরুণাস্থি স্তরটি ওষুধের তীব্র কেমিক্যাল দহনে সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে, হাত পিঠের দিকে নিতে তীব্র টান লাগা, হাঁটু নাড়াতে গেলে খটখট শব্দ হওয়া কিংবা সিড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় কষা ব্যথা লাগার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার (NSAIDs) কিনে মাসের পর মাস মুড়িমুড়কির মতো গিলে খেতে থাকেন অথবা হাতুড়ে কেন্দ্রে গিয়ে জয়েন্টের ভেতর ক্ষতিকর স্টেরয়েড ইনজেকশন অনবরত পুশ করতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং মুখমণ্ডল ও কঙ্কালতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত মাস্কুলোস্কেলেটাল প্যাথলজি ও বায়োমেকানিক্স অনুযায়ী, জয়েন্ট জ্যাম হওয়া কোনো কেমিক্যালের সাময়িক ঘাটতি নয়; এটি হলো জয়েন্টের ভেতরের ক্যাপসুল আস্তরণটি ক্রনিক প্রদাহের কারণে সংকুচিত হয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া বা সাইনোভিয়াল ফ্লুইড শুকিয়ে মেকানিক্যাল ঘর্ষণ তৈরি হওয়া।
কোনো রাসায়নিক কেমিক্যাল পেইনকিলার এই শক্ত হয়ে যাওয়া ক্যাপসুলের মেকানিক্যাল ব্লকেজ বা লিগামেন্টের ক্ষয়কে প্রাকৃতিকভাবে আলগা করে সুস্থ করতে পারে না। আপনি যখন কোনো চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট এক্স-রে বা রক্তের ইউরিক এসিড পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ব্যথানাশক ড্রাগস অনবরত খেতে থাকবেন, তখন তা পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ দেওয়ালে অ্যাসিডের তীব্র ক্ষরণ ঘটিয়ে মারাত্মক আলসার তৈরি করে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, ওষুধের অতিরিক্ত কেমিক্যাল রক্ত ফিল্টার করার প্রধান ছাঁকনি বা কিডনির নেফ্রন নালীগুলোকে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) জন্ম দেয়, যার ফলে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব ও ডায়ালাইসিস স্টেজের মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে ঠেলে দেয়।
জয়েন্টের এই ক্রনিক মেকানিক্যাল জ্যাম শান্ত করার এবং হাড়ের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং থেরাপিউটিক ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। কোনো হাতুড়ে টোটকার পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞের অধীনে আক্রান্ত জয়েন্টের ডায়াগনসিস করিয়ে মূল ড্যামেজ লেভেল নিখোঁতভাবে লক করুন। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো হাড়ের প্রদাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা হাড়ের ডেনসিটি ও সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বাড়াতে সাহায্য করে। পেশী সচল রাখতে আক্রান্ত জয়েন্টের মেকানিক্যাল গতিশীলতা বাড়াতে চিকিৎসকের নির্দেশিত সুনির্দিষ্ট থেরাপিউটিক স্ট্রেচিং ব্যায়াম নিয়ম মেনে প্রতিদিন করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
কাঁধ জ্যাম হয়ে গিয়েছিল। পেইনকিলার খেতাম। এখন জানলাম এক্স-রে দরকার। অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন নিচ্ছি।
হাঁটু ব্যথায় নিজে নিজে ইনজেকশন নিতাম। এখন সঠিক চিকিৎসা নিই। ব্যথা কমছে।
থেরাপিউটিক স্ট্রেচিং ব্যায়াম নিয়ম মেনে করছি। কাঁধের গতিশীলতা বাড়ছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
