বাচ্চার খাবারে একটু অরুচি বা খিটখিটে মেজাজ দেখলেই কি নিজে নিজে কড়া কৃমির সিরাপ কিনে খাওয়াচ্ছেন?
সাবধান! বয়স ও ওজনের মাপ না জেনে ওটিসি ড্রাগসের এই অতিরিক্ত লোড আপনার সন্তানের সংবেদনশীল লিভার ও অন্ত্রকে স্থায়ীভাবে নিস্তেজ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
শিশুর খাবারে অলসতা, অরুচি বা রাতে ঘুমানোর সময় মলদ্বারে চুলকানি দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া কৃমির ওষুধ খাওয়ানো এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই কেমিক্যালের ভুল ডোজ বাচ্চার যকৃতের এনজাইম অনিয়ন্ত্রিত করে তীব্র লিভার ইনজুরি তৈরি করতে পারে।
আমাদের শিশু ওয়ার্ড ও জেনারেল পেডিয়াট্রিক ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক পরিপাকতন্ত্রের জটিলতায় ভোগা শিশু আসে, যাদের মায়েরা বা অভিভাবকেরা বাচ্চার সামান্য পেট কামড়ানো, খিটখিটে মেজাজ বা খিদের অভাব দেখলেই কোনো পরীক্ষা ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া কৃমির ওষুধ (Anthelmintic বড়ি বা সিরাপ যেমন: অ্যালবেনডাজল বা মেবেনডাজল) কিনে খাইয়ে দেন। এটি আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে অত্যন্ত গভীর ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত একটি ভয়ানক ক্ষতিকর অবৈজ্ঞানিক সাধারণ কুঅভ্যাস। অনেকেই ভাবেন কৃমির ওষুধ একটি সাধারণ লিকুইড টনিক, যা যেকোনো বয়সের বাচ্চাকে যখন-তখন পরিমাপ ছাড়া খাওয়ানো যায় এবং এতে কোনো ক্ষতি হয় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পেডিয়াট্রিক ফার্মাকোলজি ও মেটাবলিক অ্যানাটমি অনুযায়ী, কৃমির ওষুধগুলো অত্যন্ত কড়া কেমিক্যাল ফর্মুলেশন, যা অন্ত্রের ভেতরের পরজীবী বা কৃমির স্নায়ুতন্ত্রকে প্যারালাইজড করে মল দিয়ে বের করার জন্য তৈরি।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ও বাচ্চার শারীরিক ওজনের ও বয়সের নিখুঁত সমীকরণ (mg/kg dose calculation) ছাড়া হুটহাট ওটিসি কৃমির সিরাপ বা বড়ি অনবরত সেবন করাবেন, তখন সেই কেমিক্যালের অতিরিক্ত টক্সিক রেসিডিউ সরাসরি বাচ্চার নরম লিভার ও হেপাটোসাইট কোষের ওপর তীব্র বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এর সরাসরি ফলে, রক্তে যকৃতের এনজাইম বা এসজিপিটি (SGPT) হঠাৎ বিপজ্জনক সীমায় লাফিয়ে ওঠে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি' (DILI) বলা হয়, যা এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় বাচ্চার কাঁচা চামড়া ও চোখে জন্ডিস তৈরি করে এবং যকৃতের স্বাভাবিক বিপাক ক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলে। তাছাড়া, কৃমি যখন পেটের ভেতর মরে পচতে শুরু করে, তখন তার থেকে নির্গত তীব্র টক্সিন বা বিষ বাচ্চার অন্ত্রের প্রাকৃতিক মিউকাস স্তরকে পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে বাচ্চার দীর্ঘস্থায়ী তীব্র পাতলা পায়খানা, বমি, চুলকানি এবং রক্তের শ্বেতকণিকার মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, যা বাচ্চাকে লাইফ সাপোর্টের চরম সংকটে ঠেলে দিতে পারে।
শিশুর কৃমির সমস্যা দূর করা এবং পরিপাকতন্ত্রের ইমিউনিটি প্রাকৃতিকভাবে মজবুত করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ওষুধের অন্ধ শর্টকাটের পেছনে সময় নষ্ট না করে বাচ্চার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং ওষধি লাইফস্টাইলের মৌলিক পরিবর্তনের ভেতর। দুই বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ সেবনের আগে তীব্র সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে; তাই নিজে নিজে কোনো কেমিক্যাল সিরাপ বাচ্চার মুখে দেবেন না। বাচ্চার হাত ধোয়ার অভ্যাস, নখ ছোট রাখা এবং খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা বন্ধ করার ওষধি নিয়ম কঠোরভাবে বজায় রাখুন। কোনো ওটিসি সাপ্লিমেন্টের ভুয়া মোহের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে বাচ্চার মলের সাধারণ পরীক্ষা (Stool R/E) করিয়ে কৃমির সুনির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত হোন। যদি ওষুধ দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তবে চিকিৎসকের নির্দেশিত ও ওজনের সাথে মাপা সুনির্দিষ্ট একক ডোজ সম্পূর্ণ করুন এবং পেটের ভালো প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া সচল রাখতে নিয়মিত ঘরে পাতা চিনি ছাড়া টকদই বা পুষ্টিকর আঁশযুক্ত ওটস বাচ্চার খাবার তালিকায় রাখুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ছেলের পেট ব্যথায় নিজে নিজে কৃমির সিরাপ দিয়েছিলাম। বমি ও জন্ডিস দেখা দিল। ডাক্তার বললেন লিভার ইনজুরি।
মেয়ের মল পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হলাম কৃমি নেই। আগে নিজে নিজে সিরাপ দিতাম। এখন জানি ভুল ছিল।
ওজন মাপা সঠিক ডোজ দিয়ে ডাক্তার কৃমির ওষুধ দিলেন। এক ডোজেই সমস্যা দূর হলো।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
