চোখে সামান্য চুলকানি বা লালচে ভাব হলেই কি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি ড্রাপস ঢালছেন?

সাবধান! কর্নিয়া পরীক্ষা ছাড়া কড়া কেমিক্যাল বা স্টেরয়েড ড্রপের এই অপব্যবহার আপনার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে কেড়ে নিচ্ছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

চোখ লাল হওয়া বা কনজাংটিভাইটিসের যন্ত্রণায় চিকিৎসকের ওফথালমোস্কোপিক পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া স্টেরয়েড আই ড্রপ অনবরত ব্যবহার করা এক ভয়ানক ভুল; কারণ এই কেমিক্যালের তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চোখের ভেতরের প্রেষণ বাড়িয়ে স্থায়ী গ্লুকোমা ও অন্ধত্ব ডেকে আনে।

আমাদের অফথালমোলজি ও কর্নিয়াল ডিজিজ বিশেষায়িত জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক চোখের ক্রনিক ইনফেকশনে আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যাদের চোখের ভেতরের সংবেদনশীল কর্নিয়া বা লেন্সটি কেমিক্যালের তীব্র দহনে স্থায়ীভাবে গলে ঘোলাটে হয়ে গেছে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ স্তব্ধ। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ধুলোবালি লেগে চোখ চুলকানো, অনবরত চোখ দিয়ে জলীয় তরল ঝরা, চোখ ওঠা বা চোখ লাল হওয়ার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যান না। এর বদলে তারা হাতের কাছে থাকা বা ফার্মেসির লোকমুখে শুনে নিজে নিজে কড়া ডেটক্স ড্রাপস (যেমন: ডেক্সামিথাসন, বেটামিথাসন বা কড়া অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড মিশ্রিত ড্রপ) কিনে মাসের পর মাস চোখে ঢালতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং চোখের সংবেদনশীল মেটাবলিক সিস্টেমের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত চোখের অ্যানাটমি ও অপটিক্যাল লজিক অনুযায়ী, কর্নিয়া হলো চোখের বাইরের স্বচ্ছ সুরক্ষাপ্রাচীর, যা আলোকরশ্মিকে লেন্সের গভীরে নিখুঁতভাবে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট স্লিট-ল্যাম্প পরীক্ষা ছাড়া কর্নিয়ার আসল অবস্থা না জেনে অনবরত এই কড়া কেমিক্যাল লিকউড ড্রপ চোখে ঢালবেন, তখন ওই ওষুধের কড়া স্টেরয়েড উপাদানগুলো চোখের ভেতরের জলীয় তরলের (Aqueous Humor) স্বাভাবিক নিষ্কাশন পথকে এক নিমিষে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেয়। এর সরাসরি ক্ষতিকর রিবাউন্ড মেকানিজম হিসেবে, চোখের অভ্যন্তরীণ প্রেশার (Intraocular Pressure) অস্বাভাবিক মাত্রায় স্পাইক করে ফেলে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'স্টেরয়েড ইনডিউসড গ্লুকোমা' (Steroid-induced Glaucoma) বলা হয়। এই জটিল প্রেশার চোখের পেছনের প্রধান অপটিক স্নায়ুকে (Optic Nerve) অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে চিরতরে অবশ ও অকেজো করে দেয়। এর সরাসরি ফলে রোগী কোনো আগাম সতর্কবার্তা বা অপারেশনের সুযোগ না পেয়ে চিরতরে পুর্ণাঙ্গ অন্ধত্ব বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে পতিত হন।

চোখের এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ শান্ত করার এবং দৃষ্টিশক্তির দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি আই ড্রপের অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। চোখে সামান্য ময়লা বা লালচে ভাব হলে প্যানিকড না হয়ে ঠান্ডা পরিষ্কার পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ আলতো করে ধুয়ে নিন। কোনো মেকানিক্যাল ঘর্ষণের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন অফথালমোলজিস্টের অধীনে চোখের প্রেশার ও কর্নিয়া পরীক্ষা করিয়ে মূল সমস্যা নিখ্ণুতভাবে লক করুন। ইনফ্লেমেশন ও চোখের অ্যালার্জি কমাতে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালীর মেটাবলিজম ওলটপালট করে দেয়। চোখের কোলাজেন ফাইবার সচল রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের কুসুম, তাজা ছোট কাঁচকি মাছ এবং ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ দেশী পাকা গাজর, মিষ্টি কুমড়া খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. রফিকুল ইসলাম

চোখ লাল হলেই ড্রপ দিতাম। এখন জানলাম গ্লুকোমা হতে পারত। চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিই।

ফাতেমা বেগম

ওটিসি স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করতাম। চোখের প্রেশার বেড়ে গিয়েছিল। এখন নিয়ন্ত্রণে।

আবদুল করিম

চোখ ওঠায় নিজে নিজে ড্রপ দিয়েছিলাম। কর্নিয়া জ্বলে গিয়েছিল। এখন চিকিৎসাধীন।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।