পেট পরিষ্কার না হলেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের লিকুইড বা জোলাপ বড়ি খাচ্ছেন?
জানুন ওটিসি ল্যাক্সেটিভের এই অতিরিক্ত অপব্যবহার কীভাবে আপনার অন্ত্রের পেশী এবং লিভার মেটাবলিজমকে স্থায়ীভাবে অলস করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট কষা ভাব দূর করার জন্য চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া অনবরত ওটিসি জোলাপ (Laxatives) বড়ি বা লিকুইড খাওয়ার অভ্যাস অন্ত্রের প্রাকৃতিক সংকোচন ক্ষমতা ধ্বংস করে এবং লিভারের মেটাবলিক ভারসাম্য মারাত্মক ব্যাহত করে।
আমাদের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও যকৃত মেডিসিন বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোলনের জটিলতায় ভুগা রোগী আসেন, যারা গত কয়েক বছর ধরে পেট পরিষ্কার না হলেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া ল্যাক্সেটিভ বা জোলাপের লিকুইড সিরাপ (যেমন: সোডিয়াম পিকোসালফেট বা ল্যাকটুলোজ) অথবা তীব্র উদ্দীপক বড়ি কিনে খেয়ে আসছেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি মারাত্মক চিকিৎসাগত ক্ষতিকর অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পরিপাক প্যাথলজি অনুযায়ী, আমাদের অন্ত্র বা কোলনের ভেতরের দেওয়ালে প্রাকৃতিকভাবেই এক ধরণের ছান্দিক সংকোচন ও প্রসারণ (Peristalsis) প্রক্রিয়া চলে, যা খাবার হজমের পর বর্জ্য পদার্থকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মলদ্বারের দিকে ঠেলে নিয়ে যেতে শরীরকে সাহায্য করে।
আপনি যখন চিকিৎসকের কোনো লিখিত গাইডলাইন বা নির্দিষ্ট মেয়াদ ছাড়া অনবরত এই ওটিসি (OTC) ল্যাক্সেটিভ বড়ি বা লিকুইড ওষুধগুলো সেবন করতে থাকবেন, তখন তা অন্ত্রের স্নায়ুগুলোকে কৃত্রিম তীব্র উদ্দীপনা দিয়ে অলস করে ফেলে। এর সরাসরি ফলে, পেটের ভেতরের স্বাভাবিক সংকোচন ক্ষমতা স্থায়ীভাবে অবশ হয়ে যায়, যার ফলে ওষুধ ছাড়া অন্ত্র নিজের ইচ্ছায় আর বর্জ্য পরিষ্কার করতে পারে না। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'লেজি বাওয়েল সিন্ড্রোম' (Lazy Bowel Syndrome) বলা হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও ১০০ গুণ তীব্র ও জটিল করে তোলে। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, এই কড়া লিকুইডের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান (যেমন: পটাশিয়াম ও ইলেকট্রোলাইটস) অনবরত বের হয়ে যায়। পটাশিয়ামের এই তীব্র ঘাটতি লিভারের বিপাকীয় এনজাইম উন্নত করতে বাধা দেয় এবং যকৃতের স্বাভাবিক মেটাবলিজম পুরোপুরি নষ্ট করে ফ্যাটি লিভার ও জন্ডিসের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের কষা ভাব দূর করার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের ভেতর। কোনো চটকদার ম্যাজিক সিরাপ বা সাময়িক জোলাপের পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের অধীনে কোলনোস্কোপি বা লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের মূল কারণটি সনাক্ত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল, ময়দার তৈরি পরোটা, ফাস্টফুড এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত Processesড জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো অন্ত্রের নালী শুকিয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি এবং ইসবগুলের ভুষি ও বেল খাওয়া খাদ্য তালিকায় রাখুন। পাকস্থলীর ভালো ব্যাকটেরিয়া সচল রাখতে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পর ছোট এক বাটি ঘরে পাতা চিনি ছাড়া টকদই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
বছরের পর বছর জোলাপ সিরাপ খেয়েছি। এখন ওষুধ ছাড়া পেট পরিষ্কার হয় না। ডাক্তার বললেন লেজি বাওয়েল সিন্ড্রোম। আগে জানলে এত বড় ক্ষতি হতো না।
ইসবগুলের ভুষি আর প্রচুর পানি খাওয়ার অভ্যাস শুরু করেছি। ২ সপ্তাহে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেক কমেছে। জোলাপের দরকার হচ্ছে না আর।
মাকে বুঝিয়েছি জোলাপ খাওয়া বন্ধ করতে। এই আর্টিকেলটা অনেক কাজে লেগেছে। ধন্যবাদ ডাক্তার স্যারকে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
