লিপিড রিপোর্টে ক্ষতিকর চর্বি বা কোলেস্টেরল একটু বেশি দেখলেই কি আতঙ্কে স্ট্যাটিন বড়ি গিলছেন?

সাবধান! চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কড়া চর্বি নাশক বড়ির এই অপব্যবহার আপনার লিভারের কোষ ও মাংসপেশীকে স্থায়ীভাবে নিস্তেজ করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা লিপিডের মাত্রা একটু বেশি দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) স্ট্যাটিন বড়ি খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এই কড়া চর্বিনাশক ড্রাগস সরাসরি লিভারের এনজাইম অনিয়ন্ত্রিত করে তীব্র লিভার ড্যামেজ ও মাংসপেশীর স্থায়ী ক্ষয় রোগ তৈরি করতে পারে।

আমাদের অভ্যন্তরীণ মেডিসিন ও কার্ডিও-মেটাবলিক ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক রোগী আসেন, যারা সাধারণ লিপিড প্রোফাইল (Lipid Profile) রক্ত পরীক্ষায় ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা কিছুটা বেশি দেখেই চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই রোগীরা কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির সমীকরণ ছাড়াই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া চর্বিনাশক বড়ি বা স্ট্যাটিন (Statins যেমন: অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন বা রোসুভাস্ট্যাটিন) ট্যাবলেট কিনে খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও ক্ষতিকর চিকিৎসাগত কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার মেটাবলিজম অনুযায়ী, লিভার বা যকৃত প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের বিভিন্ন হরমোন ও কোষের সুরক্ষাপ্রাচীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল তৈরি করে থাকে।

আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক ক্যালকুলেশন ছাড়াই হুটহাট কড়া কেমিক্যাল স্ট্যাটিন ড্রাগস সেবন করতে থাকবেন, তখন তা লিভারের স্বাভাবিক মেটাবলিক পাথওয়েকে জোরপূর্বক ব্লক করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, রক্তে চর্বি সাময়িকভাবে কম মনে হলেও তা লিভারের অভ্যন্তরীণ এনজাইমগুলোর মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা (SGPT/SGOT স্পাইক) তৈরি করে যকৃতের তীব্র প্রদাহ বা ড্রাগ-ইনডিউসড হেপাটাইটিসের জন্ম দেয়। এর চেয়েও বিপজ্জনক সত্য হলো, এই কড়া লিপিড-লোয়ারিং কেমিক্যালের অতিরিক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শরীরের কঙ্কাল পেশী বা স্কেলেটাল মাসল কোষগুলোকে নিস্তেজ করে ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'মায়োপ্যাথি' (Myopathy) বা 'র‍্যাবডোমায়োলাইসিস' (Rhabdomyolysis) বলা হয়, যার ফলে রোগীর সারা শরীরে, বিশেষ করে ঘাড়ে, পিঠে ও পায়ের পেশীতে তীব্র অসহ্য কামড়ানো ব্যথা শুরু হয় এবং পেশী গলে গিয়ে কিডনি বিকল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

রক্তের ক্ষতিকর চর্বি বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার প্রতিদিনের খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের সুনির্দিষ্ট বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ভেতর। কোনো কড়া ড্রাগসের মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে একজন মেডিসিন বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে পূর্ণাঙ্গ লিপিড প্রোফাইল এবং লিভার ফাংশন টেস্ট করিয়ে ক্ষতের গভীরতা নিশ্চিত করুন। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত Processesড জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই রক্তনালীতে চর্বির প্লাক বা ব্লকেজ জমার মূল ট্রিগার। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত এবং উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন। রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে এবং ধমনীর দেওয়ালে জমে থাকা নতুন চর্বির কণাগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে ধুয়ে বা ফ্ল্যাশ আউট করে পরিষ্কার করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

কামরুল হাসান

লিপিড রিপোর্ট দেখে নিজে নিজে স্ট্যাটিন খেতে শুরু করেছিলাম। পেশীতে তীব্র ব্যথা শুরু হলে ডাক্তার দেখান। বললেন ওষুধের সাইড ইফেক্ট। আগে জানতাম না।

নাসরিন সুলতানা

বাবা নিজে নিজে স্ট্যাটিন খেয়ে লিভার এনজাইম বেড়ে গিয়েছিল। এখন ডাক্তারের পরামর্শে চলছেন। সবাইকে সতর্ক করি, নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না।

শাহিদুল ইসলাম

ওটস আর হাঁটার অভ্যাস শুরু করেছি, ৩ মাসে কোলেস্টেরল অনেক কমেছে। ডাক্তার স্যারের পরামর্শ সত্যিই কার্যকর।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।