পিঠের নিচে বা কোমরের দুপাশে হঠাৎ তীব্র মোচড়ানো ব্যথায় কি ছটফট করছেন? ওটিসি পেইনকিলার গিলছেন কি?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি ড্রাগস বা তথাকথিত পাথর গলানোর টনিক আপনার কিডনিকে চিরতরে বিকল করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
কিডনি বা মূত্রনালীতে পাথর (Kidney Stones) ধরা পড়লে ইউরোলজিস্টের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া পেইনকিলার খাওয়া বা অবৈজ্ঞানিক তরল জোলাপ খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ মেকানিক্যাল ব্লকেজ কখনো সিরাপে গলে না বরং ইনফেকশন হয়ে কিডনি পুরোপুরি বিকল করে দেয়।
আমাদের ইউরোলজি ও রেনাল ক্যালকুলি বিশেষায়িত জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক পিঠের নিচে তীব্র মোচড়ানো অসহ্য ব্যথা (Renal Colic) এবং প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া রোগী আসেন, যাদের কিডনি বা ইউরেটার নালীটি পাথরের মেকানিক্যাল ব্লকেজের কারণে স্থায়ীভাবে ফুলে ড্যামেজ (Hydronephrosis) হয়ে গেছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, কোমর বা কুঁচকির দুপাশে তীব্র ঢেউয়ের মতো কামড়ানো কষ্ট শুরু হওয়া, অনবরত বমি হওয়া কিংবা প্রস্রাবের সাথে তাজা রক্তপাত দেখা দেওয়ামাত্রই তারা সার্জন বা ইউরোলজিস্টের কাছে যান না। এর বদলে তারা অনলাইন লাইভ দেখে বা লোকমুখে শুনে নিজে নিজে বছরের পর বছর 'অলৌকিক পাথর গলানোর ওষধি লিকুইড', ক্ষতিকর ভেষজ ডিটক্স রস অথবা কড়া ওটিসি পেইনকিলার ট্যাবলেট খেয়ে ঘরে বসে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং শরীরের প্রধান রক্তের ফিল্টারিং সিস্টেমের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক জীবনঘাতী চিকিৎসাগত ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত রেনাল প্যাথলজি ও ইউরোলজি অ্যানাটমি অনুযায়ী, কিডনির ভেতরের পুরোনো পাথরগুলো কোনো নরম চর্বি নয়, এগুলো মূলত বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা শক্ত ক্যালসিয়াম অক্সালেট বা ইউরিক এসিডের পাথুরে আস্তরণ, যা কোনো ওটিসি তরল বা কেমিক্যাল সিরাপে গলানো বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণ অসম্ভব।
আপনি যখন কোনো গাইডেড চিকিৎসা ছাড়া অলৌকিক লিকুইডের ওপর অন্ধ ভরসা করে ওটিসি কড়া পেইনকিলার অনবরত খেতে থাকবেন, তখন তা ব্যথার সংকেত সাময়িকভাবে অবশ করলেও ভেতরের মেকানিক্যাল ব্লকেজ বিন্দুমাত্র সরাতে পারে না। উল্টো প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণ আটকে গিয়ে কিডনির ভেতরে তীব্র পুঁজযুক্ত ব্যাক-প্রেশার ইনফেকশনের (Pyonephrosis) সৃষ্টি করে। এর সরাসরি ফলে, কিডনির সুস্থ নেফ্রন কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে ও ইনফেকশনের বিষক্রিয়ায় এক নিমিষে মরে যায়, যা কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD Stage 5) ডায়ালাইসিস স্টেজের দিকে ঠেলে দেয় এবং রক্তে ইলেকট্রোলাইটের তীব্র ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে শকের জন্ম দেয়।
কিডনির পাথর ও এই ভয়ানক জটিলতা থেকে জীবনকে সুরক্ষিত রাখার আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ওষুধের মোহের পেছনে গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে একজন ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের অধীনে একটি কেইউবি আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG of KUB) বা নন-কনট্রাস্ট সিটি স্ক্যান (NCCT KUB) পরীক্ষা করিয়ে পাথরের সুনির্দিষ্ট পরিমাপ ও অবস্থান নিখুঁতভাবে নিশ্চিত করার ভেতর। যদি পাথরের আকার ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট হয়, তবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত পাতে কাঁচা লবণ খাওয়া এবং অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার যেমন—কামরাঙা, টমেটোর বীজ, অতিরিক্ত লাল মাংস শতভাগ বর্জন করে ওটস, লাল চালের ভাত এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ আখরোট খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীরকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত রাখতে এবং প্রস্রাবের গতি বাড়িয়ে ছোট পাথর প্রাকৃতিকভাবেই ধুয়ে ফ্ল্যাশ আউট করে বের করে দিতে দৈনিক অন্তত ১২ থেকে ১৫ গ্লাস (৩.৫ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন। আর যদি পাথরের আকার বিপজ্জনক স্তরে থাকে, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের গাইডলাইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ আধুনিক, নিরাপদ ও বুক না কেটে বা পেট না কেটে করা 'লেজার লিথোট্রিপসি' (ESWL / URSL) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ধমনী ও ইউরেটার অক্ষুণ্ণ রেখে শুধুমাত্র পাথরটি নিরাপদে গুঁড়ো করে অপসারণের উন্নত প্রফেশনাল চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
কিডনিতে ৮ মিমি পাথর। লোকমুখে লিকুইড খেয়েছিলাম। ইউরোলজিস্টের কাছে এসে লেজার করিয়েছি।
পিঠে তীব্র ব্যথায় পেইনকিলার খেতাম। আল্ট্রাসনোগ্রামে হাইড্রোনেক্রোসিস। এখন সঠিক চিকিৎসায়।
পানি বেশি খাওয়ার অভ্যাস করেছি। ছোট পাথর প্রাকৃতিকভাবে বেরিয়ে এসেছে। ডায়েট মেনে চলছি।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
