চোখের চারপাশ অনবরত কষা ভার লাগছে এবং চোখের দৃষ্টির পরিধি কি দিন দিন চারপাশ থেকে সংকীর্ণ হয়ে আসছে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া স্টেরয়েড ড্রপের এই অপব্যবহার আপনার প্রধান অপটিক স্নায়ুকে চিরতরে পুড়িয়ে দিচ্ছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

চোখের দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা বা দৃষ্টির চারপাশের পরিধি কমে যাওয়াকে সাধারণ মেটাবলিক ক্লান্তি ভেবে ডাক্তারের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া স্টেরয়েড আই ড্রপ খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ গ্লুকোমা অপটিক স্নায়ু পুড়িয়ে চিরতরে স্থায়ী অন্ধত্ব তৈরি করে।

আমাদের অফথালমোলজি ও অপটিক নার্ভ কেয়ার বিশেষায়িত ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক চোখের তীব্র অভ্যন্তরীণ প্রেশারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের চোখের পেছনের প্রধান দৃষ্টি স্নায়ু বা অপটিক নার্ভটি উচ্চ প্রেশারের দীর্ঘস্থায়ী বিষক্রিয়া ও মেটাবলিক ড্যামেজের ফলে সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে গেছে [১৩.৪]। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তন হওয়া, আলোর চারপাশে রঙের বলয় দেখা, অবিরত কড়া মাথাব্যথা হওয়া কিংবা চোখের দৃষ্টির চারপাশের পরিধি ধীর গতিতে সংকীর্ণ (Tunnel Vision) হয়ে আসার কষ্ট দেখা দেওয়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যান না [১৩.৪]। এর বদলে তারা প্রথাগতভাবে মেকানিক্যাল ক্লান্তি বা এসিডিটির গ্যাস মনে করে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া পেইনকিলার গিলে খেয়ে নেন অথবা ডাক্তারের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া স্টেরয়েড ড্রপ চোখে ঢালতে থাকেন [১৩.৪]। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং চোখের পেছনের প্রধান দৃষ্টি সংকেতের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল কুঅভ্যাস [১৩.৪]। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত চোখের প্যাথলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, গ্লুকোমা (Glaucoma) কোনো অলৌকিক রোগ নয়; এটি হলো চোখের ভেতরের তরল বা এক্যুয়াস হিউমারের স্বাভাবিক নিষ্কাশন পথটি যখন কোনো কড়া কেমিক্যালের বিষক্রিয়া বা মেটাবলিক ব্লক সৃষ্টি করে চোখের ভেতরের প্রেশার (IOP) বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দেয় [১৩.৪]।

আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট টোনোমেট্রি (Tonometry) বা ভিজ্যুয়াল ফিল্ড (Perimetry) পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া ড্রাপস অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন তা চোখের পেছনের প্রধান অপটিক স্নায়ুর সূক্ষ্ম তন্তুগুলোকে প্রাকৃতিকভাবেই এক নিমিষে পুরোপুরি স্তব্ধ ও অবশ করে ফেলে [১৩.৪]। এর সরাসরি ক্ষতিকর মেকানিজম হিসেবে, চোখের প্রেশার অনিয়ন্ত্রিতভাবে এক ধাক্কায় স্পাইক করে ফেলে এবং কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে ক্রনিক অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দেয়, যা কোনো কড়া অস্ত্রোপচার বা ওষধি চিকিৎসা ছাড়া পূর্বের সুস্থ অবস্থায় ফেরা সম্পূর্ণ অসম্ভব [১৩.৪]।

চোখের এই ক্রনিক স্নায়ু ক্ষয় রোধ করার এবং চোখের ভেতরের প্রেশার প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং মেটাবলিক ওষধি লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর [১৩.৪]। চল্লিশোর্ধ বয়সে বছরে অন্তত একবার চোখের প্রেশার পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক করুন [১৩.৪]। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো রক্তনালী সরু করে চোখের প্রেশার বাড়ায় [১৩.৪]। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের কুসুম, তাজা দেশী ছোট কাঁচকি মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খাদ্য তালিকায় রাখুন [১৩.১], যা চোখের রক্তনালী ও স্নায়ু পুনর্গঠনে সাহায্য করে [১৩.৪]। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং চোখের তরল সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন [১৩.৪], রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন [১৩.৪]।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

মো. শাহাবুদ্দিন

চোখের চারপাশ ভার লাগত, পেইনকিলার খেতাম। টোনোমেট্রি করে জানলাম গ্লুকোমা। এখন চিকিৎসাধীন।

নাসরিন আক্তার

বাবার দৃষ্টির পরিধি কমে যাচ্ছিল। ওটিসি ড্রপ দিতাম। এখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আছি।

অমিত কুমার দাস

চল্লিশের পর চোখের প্রেশার পরীক্ষা করাইনি। এই অভিমত পড়ে ভয় পেলাম। দ্রুত পরীক্ষা করাব।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।