কোনো কারণ ছাড়াই কি মুখের দুই গালে জেদি কালো মেছতার ছোপ বসছে? হরমোনের গোলমাল নয় তো?

জানুন সাধারণ ফর্সা হওয়ার ক্রিম কেন আপনার ভেতরের হরমোনজনিত পিগমেন্টেশনকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত

নারীদের মুখের জেদি মেছতা বা Melasma কেবল বাইরের চামড়ার সমস্যা নয়; এটি মূলত শরীরের ভেতরের ইস্ট্রোজেন হরমোনের তারতম্য এবং থাইরয়েডের গোলমালের কারণে মেলানিন কোষের অতিরিক্ত ক্ষরণের ফলে ঘটে।

আমাদের হরমোনাল ডার্মাটোলজি ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক মা ও বোনেরা আসেন, যারা গর্ভাবস্থার পরে বা পিসিওএস (PCOS) ধরা পড়ার পর মুখের দুই গালে, কপালে বা নাকের ওপর জেদি কালো ছোপ ছোপ মেছতার দাগ নিয়ে চরম বিষণ্ণতায় ও মানসিক হীনমন্যতায় ভোগেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তব সত্য হলো, নারীদের শরীরে যখন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের তীব্র ওঠানামা ঘটে—বিশেষ করে সন্তান প্রসবের পর কিংবা অনিয়মিত পিরিয়ডের সময়—তখন ত্বকের গভীর স্তরে থাকা মেলানোসাইট (Melanocyte) কোষগুলো অতি-উত্তেজিত হয়ে পড়ে। নিজেকে রক্ষার এক ভুল মেকানিজম হিসেবে এই কোষগুলো ত্বকের উপরিভাগে অতিরিক্ত মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ জমা করতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একেই আমরা মেছতা বা ক্রনিক হাইপারপিগমেন্টেশন (Hyperpigmentation) বলি।

অধিকাংশ নারী এই দাগ দ্রুত দূর করার অন্ধ টানে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পার্লার থেকে কড়া কেমিক্যাল ব্লিচিং করান বা পারদযুক্ত মার্কারি নাইট ক্রিম মুখে মাখেন। এটি আমাদের সমাজে প্রচলিত এক মারাত্মক আত্মঘাতী ভুল। এই কড়া কেমিক্যালগুলো সাময়িকভাবে ত্বকের উপরিভাগের কোষকে পুড়িয়ে দাগ হালকা করার ছদ্মবেশ ধরলেও চামড়াকে একদম পাতলা ও সুরক্ষাহীন করে ফেলে। এর সরাসরি ফলে, পরবর্তীতে সামান্য রোদ বা চুলার আগুনের অতিবেগুনী রশ্মির ছোঁয়া লাগলেই ত্বক স্থায়ীভাবে ড্যামেজ হয়ে মেছতার গভীরতাকে আরও ১০০ গুণ জেদি ও স্থায়ী ব্ল্যাকে রূপান্তর করে।

মেছতার আসল বৈজ্ঞানিক নিরাময় হলো—বাইরের প্রসাধনী লেপার আগে ভেতরের হরমোনের ওজনের সমীকরণটি ঠিক করা। একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্যে রক্তের থাইরয়েড প্রোফাইল ও ওভারির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করিয়ে মূল হরমোনাল ট্রিগারটি শান্ত করুন। স্কিনকেয়ার রুটিনের প্রধান শর্ত হলো—দিনের বেলা ঘরে বা বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, প্রতি ৩ ঘণ্টা পর পর একটি ভালো ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন (Sunscreen) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা, যা ক্ষতিকর ইউভি রশ্মিকে চামড়ায় ঢুকতে বাধা দেবে।

চিকিৎসকের নির্দেশিত ট্রানেক্সামিক এসিড, কোজিক এসিড বা আলফা আরবুটিন সমৃদ্ধ কসমেসিউটিক্যালস সিরাম নিয়মিত ব্যবহার করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মেছতার দাগ প্রাকৃতিকভাবেই হালকা হয়ে চামড়া তার স্বাভাবিক লাবণ্য ফিরে পায়। রাত জাগার অভ্যাস হরমোনের সুষম ভারসাম্যকে সবচেয়ে দ্রুত নষ্ট করে দেয়; তাই রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন। রক্ত ডিটক্স রাখতে দিনে ৩.৫ লিটার পানি পান করুন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকী, পেয়ারা ও লেবুর রস প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

ফারহানা কবির

গর্ভাবস্থার পর মুখে মেছতা পড়েছিল। হরমোন টেস্ট করালে থাইরয়েড সমস্যা ধরা পড়ল। চিকিৎসা আর সানস্ক্রিনে দাগ অনেক হালকা হয়েছে।

তাহমিনা আক্তার

PCOS-এর কারণে মেছতা হয়েছিল। ডায়েট চেঞ্জ আর ওজন কমিয়ে পিরিয়ড নিয়মিত করেছি, দাগ কমছে।

শাহনাজ পারভীন

ট্রানেক্সামিক এসিড সিরাম ব্যবহার করছি, ২ মাসে মেছতার দাগ অনেক হালকা। সানস্ক্রিন ছাড়া বাইরে যাই না।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।