কোনো কারণ ছাড়াই কি বুকের ভেতর হঠাৎ ধকধক করে উঠছে? নিজের হার্টবিট নিজেই স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন কি?
জানুন সাময়িক মানসিক অস্থিরতার আড়ালে ওটিসি ঘুমের বড়ি বা প্রেশারের ওষুধ খাওয়ার এই ভুল অভ্যাস কীভাবে আপনার হার্টের ইলেকট্রিকাল ছন্দকে ওলটপালট করছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
হঠাৎ বুকের ভেতর ধকধক করে ওঠা বা তীব্র বুক ধড়ফড়ানি শুরু হওয়ামাত্রই চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া নিজে নিজে ওটিসি (OTC) কড়া ঘুমের বড়ি বা প্রেশারের ওষুধ খাওয়া এক মারাত্মক ভুল; কারণ এটি হার্টের ভেতরের অনিয়মিত ছন্দ বা 'Arrhythmia' কে আড়াল করে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের হৃদরোগ ও এরিথমিয়া কেয়ার ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের জটিলতায় ভোগা ক্রনিক রোগী আসেন, যারা রাতে ঘুমানোর আগে বা অফিসে কাজের মাঝে হঠাৎ বুকের ভেতর তীব্র ধকধক করে ওঠা বা বুক ধড়ফড়ানির (Heart Palpitations) সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই রোগীরা কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ কিংবা শরীরের ভেতরের ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল ট্র্যাক না জেনেই নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কড়া ঘুমের বড়ি অথবা হৃদস্পন্দন কমানোর কড়া বিটা-ব্লকার (Beta-blockers) ট্যাবলেট কিনে খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ও প্রতিষ্ঠিত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল প্র্যাকটিস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত কার্ডিও-ফিজিওলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, সব বুক ধড়ফড়ানিই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নয়; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক মানসিক দুশ্চিন্তা, রক্তের সুগার হুট করে কমে যাওয়া (Hypoglycemia), শরীরে পানির তীব্র অভাব বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন সেবনের ফলে ঘটে থাকে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (ECG / Holter Monitor) ছাড়া হুটহাট কড়া কেমিক্যাল বিটা-ব্লকার ড্রাগস অনবরত সেবন করতে থাকবেন, তখন তা হৃদপিণ্ডের ভেতরের প্রাকৃতিক পেসমেকারের স্বাভাবিক ইলেকট্রিকাল সিগন্যালকে জোরপূর্বক স্তব্ধ ও ওলটপালট করে দেয়। এর সরাসরি ফলে, হার্টবিট সাময়িকভাবে কম মনে হলেও তা শরীরের স্বাভাবিক কার্ডিওভাসকুলার মেকানিজমকে স্থায়ীভাবে অলস ও অকেজো করে ফেলে। একপর্যায়ে হৃদস্পন্দনের ছান্দিক গতি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'এরিথমিয়া' (Arrhythmia) বা 'এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন' বলা হয়। এই জটিল অবস্থা তৈরি হওয়ামাত্রই মস্তিস্ক ও ফুসফুসে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বিপজ্জনক সীমায় থমকে যায়, যার ফলে রোগী অনবরত মাথা ঘোরা, শরীর বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং তীব্র শ্বাসকষ্টের শিকার হন, যা কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
বুকের ভেতরের এই ছটফটে ভাব বা কাঁপন প্রাকৃতিকভাবে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ উপায়ে শান্ত করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের লাইফস্টাইলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ভেতর। হঠাৎ বুক ধড়ফড়ানি শুরু হওয়ামাত্রই এক জায়গায় শান্ত হয়ে বসুন এবং সাথে সাথে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খুব ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন; এটি আপনার ভেতরের ভেগাস স্নায়ু (Vagus Nerve) উদ্দীপিত করে হৃদস্পন্দনের গতি নিমিষেই স্বাভাবিক সীমায় নামিয়ে আনে। নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড ধরে গভীর শ্বাস বুক ভরে নিয়ে ৭ সেকেন্ড পেটে আটকে রেখে মুখ দিয়ে ৮ সেকেন্ড ধরে ধীর গতিতে শ্বাস ছাড়ার '৪-৭-৮ শ্বাসের বৈজ্ঞানিক কৌশল' ব্যবহার করুন, যা মস্তিস্কের অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন কমিয়ে এক পলকে হার্টবিট স্বাভাবিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনে। খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, কড়া চা-কফি ও ধূমপান শতভাগ বর্জন করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
৪-৭-৮ শ্বাসের কৌশল ব্যবহার করে বুক ধড়ফড়ানি অনেক কমেছে।
কফি বন্ধ করে পানি বেশি খাচ্ছি, হার্টবিট স্বাভাবিক হয়েছে।
হল্টার মনিটর টেস্ট করিয়েছি, ডাক্তার বলেছেন সাধারণ প্যালপিটেশন।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
