সকালবেলা ঘুম থেকে উঠলেই কি হাতের ছোট ছোট গিট শক্ত হয়ে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ব্যথায় অবশ হয়ে থাকে?

সাবধান! চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি পেইনকিলার বা কড়া স্টেরয়েড বড়ি খাওয়ার এই শর্টকাট আপনার লিভার, কিডনি ও হাড়কে চিরতরে ধ্বংস করছে না তো?

বিশেষজ্ঞ অভিমত

দীর্ঘস্থায়ী গিট বাত বা Rheumatoid Arthritis কোনো সাধারণ ইউরিক এসিডের ব্যথা নয়, এটি মূলত ইমিউন সিস্টেমের গোলমাল; যা ওটিসি পেইনকিলারে কখনো সারে না বরং পরীক্ষা ছাড়া হুটহাট স্টেরয়েড বড়ি খেলে তা হাড় গলিয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব ডেকে আনে।

আমাদের রিউমাটোলজি ও বাতের বিশেষায়িত ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক আর্থ্রাইটিসের ভুক্তভোগী রোগী আসেন, যাদের হাতের ও পায়ের ছোট ছোট গিটগুলো তীব্র প্রদাহের কারণে বাঁকা (Joint Deformity) হয়ে গেছে এবং চামড়া খসখসে খটখটে হয়ে গেছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবারের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভয়ানক ও প্রতিষ্ঠিত ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, গাটের ব্যথা বা গিট শক্ত হয়ে লক (Morning Stiffness) হওয়া শুরু হওয়ামাত্রই তারা চর্মরোগ বা বাতের আসল কারণ না খুঁজে ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া ব্যথানাশক ট্যাবলেট কিংবা নামহীন হাতুড়ে কবিরাজের 'ম্যাজিক বাতের বড়ি' কিনে খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার রিউমাটোলজি ও অটো-ইমিউনোলজি অনুযায়ী, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কোনো বাইরের মেকানিক্যাল ক্ষয়ের রোগ নয়; এটি হলো শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম যখন পথভ্রষ্ট হয়ে নিজের সুস্থ জয়েন্টের সাইনোভিয়াল আস্তরণকে শত্রু ভেবে অনবরত আক্রমণ করতে থাকে।

আপনি যখন কোনো রিউমাটোলজিস্টের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া সাময়িক আরামের মোহে ওটিসি কড়া পেইনকিলার কিংবা ক্ষতিকর স্টেরয়েড (Steroids যেমন: প্রেডনিসোলন বা ডেক্সামিথাসন) বড়ি অনবরত সেবন করবেন, তখন তা সাময়িকভাবে বাতের সংকেত অবশ করলেও ভেতরের ইমিউন ধ্বংসযজ্ঞ বিন্দুমাত্র থামাতে পারে না। উল্টো এই কড়া কেমিক্যালের অতিরিক্ত বিষক্রিয়া শরীরের স্বাভাবিক হাড়ের ঘনত্ব এক নিমিষে পুড়িয়ে ফাঁপা করে দেয়, যাকে অস্টিওপরোসিস বলা হয়। এর সরাসরি ফলে, জয়েন্টগুলো চিরতরে ক্ষয়ে গিয়ে অকেজো হয়ে পড়ে এবং কড়া কেমিক্যালের লোডে লিভারের এনজাইম ধস নেমে ও ক্রনিক কিডনি বিকলতার (CKD) সৃষ্টি হয়, যা রোগীকে আজীবনের জন্য হুইলচেয়ারে বসতে বাধ্য করে।

বাতের এই ক্রনিক যন্ত্রণাদায়ক প্রদাহ শান্ত করার এবং জয়েন্টকে চিরতরে পঙ্গু হওয়া থেকে বাঁচানোর একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির মোহের পেছনে জীবনের মূল্যবান গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে একজন রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞের অধীনে রক্তের অ্যান্টি-সিসিপি (Anti-CCP), আরএফ (RA Factor) এবং সিআরপি (CRP) পরীক্ষা করিয়ে মূল ভাইরাসের তীব্রতা ও বাতের টাইপ নিখুঁতভাবে লক করার ভেতর। বাতের আসল বৈজ্ঞানিক নিরাময় হলো চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ডিএমএআরডি (DMARDs) থেরাপি সময়মতো শুরু করা। ওষধি লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত লাল মাংস এবং ডুবো তেলে ভাজা ট্রান্স-ফ্যাট যুক্ত প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো বাতের আগুন বা ইনফ্লেমেশনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও চিয়া সিড প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন, যা জয়েন্টের ভেতরের কষা ভাব প্রাকৃতিকভাবেই হালকা করে চামড়াকে মোটা ও সুস্থ রাখে। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।

এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?

এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন

সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়

সালমা বেগম

বাতের বড়ি নামে কবিরাজের বড়ি খেয়েছি বছরখানেক। হাতের আঙুলগুলো ধীরে ধীরে বাঁকা হয়ে গেল।

মো. আনোয়ার হোসেন

অ্যান্টি-সিসিপি পরীক্ষা করিয়ে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ধরা পড়েছে। ডিএমএআরডি শুরু করার পর সকালের কষ্ট কমেছে।

ফরিদা আক্তার

স্টেরয়েড খেয়ে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়েছিল। এখন আর নিজে নিজে কোনো বড়ি খাই না।

০/৫০০
🔥 সীমিত সময়

প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন

১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।

৩০% ছাড়

আজই যোগ দিন

AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।