গর্ভবতী হলেই কি মা-কে জোর করে দুইজনের সমান থালা ভরে খাবার খেতে হবে? বিজ্ঞান কী বলে?
জানুন অতিরিক্ত খাবারের এই প্রচলিত ধারণাটি কীভাবে মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
গর্ভাবস্থায় মায়ের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া শুধু নিজের ওজন বাড়ায় না; এটি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত ওজনের বাচ্চা প্রসবের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের প্রসূতি ক্লিনিকে প্রতিদিন এমন অনেক গর্ভবতী মা আসেন, যারা পরিবারের চাপে দুইজনের সমান খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন। আমাদের দেশে একটি অত্যন্ত প্রচলিত ও ভয়ানক কুসংস্কার হলো—গর্ভবতী মা হলেই তাকে জোর করে দ্বিগুণ খাবার খাওয়ানো হবে, কারণ তিনি এখন "দুইজনের জন্য" খাচ্ছেন। এই ভুল ধারণার কারণে অনেক মা অতিরিক্ত ভাত, তেল, চর্বি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার অনবরত সেবন করেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত ম্যাটার্নাল নিউট্রিশন গাইডলাইন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় মায়ের দৈনিক ক্যালোরি চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মাত্র ৩০০-৩৫০ ক্যালরি বেশি হয়, যা একটি ছোট আপেল ও এক কাপ দুধের সমান। অতিরিক্ত খাবারের সরাসরি ফল হলো—মায়ের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস দেখা দেয়। অতিরিক্ত চর্বি ও তেলযুক্ত খাবার রক্তের কোলেস্টেরল বাড়িয়ে প্রিক্ল্যাম্পসিয়া বা গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে।
অতিরিক্ত খাবারের আরেকটি মারাত্মক প্রভাব পড়ে গর্ভের শিশুর উপর। মায়ের রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ নাড়ির মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করে এবং ইনসুলিনের প্রভাব বাচ্চার ওজন অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ফেটাল ম্যাক্রোসোমিয়া' বলা হয়। এর ফলে নরমাল ডেলিভারি অসম্ভব হয়ে পড়ে, সিজারিয়ানের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং প্রসবের সময় বাচ্চার কাঁধ আটকে যাওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়।
সঠিক নিয়ম হলো—গর্ভাবস্থায় দুইজনের সমান খাবার নয়, বরং দুইজনের জন্য পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার খাওয়া। প্রতিদিন প্রচুর শাক-সবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ, দুধ ও পর্যাপ্ত পানি পান করা। অতিরিক্ত ভাত, চিনি, তেল ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করা।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
আমার শাশুড়ি বলছিলেন দুইজনের সমান খেতে হবে। ডাক্তার স্যারের এই কথা শুনে অনেক উপকার হলো।
একজন প্রসূতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বলছি, এই পরামর্শ শতভাগ সঠিক। অতিরিক্ত খাবার মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
গর্ভাবস্থায় ২০ কেজি ওজন বেড়ে গিয়েছিল। পরে ডায়াবেটিস ধরা পড়ল। এই নিয়ম আগে জানলে এত সমস্যা হতো না।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
