রোগী অহেতুক সবাইকে সন্দেহ করছে এবং একা একা কথা বলছে? জিনের আছর মনে করে কবিরাজী করছেন কি?
সাবধান! চিকিৎসকের পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি কড়া ঘুমের বড়ি সেবনের এই ভুল আপনার রোগীর মস্তিস্কের কোষকে চিরতরে মরণব্যাধির দিকে ঠেলে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
তীব্র মানসিক বিভ্রান্তি, অহেতুক সন্দেহ বা সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) শুরু হওয়ামাত্রই চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ছাড়া ওটিসি (OTC) কড়া ঘুমের বড়ি বা সিডেটিভ ড্রাগস খাওয়ানো এক মারাত্মক ভুল; কারণ মস্তিস্কের ডোপামিন হরমোনের এই তীব্র বিশৃঙ্খলা ঘুমের বড়িতে কখনো শান্ত হয় না।
আমাদের ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রি ও সাইকোসিস বিশেষায়িত জরুরি বিভাগে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক সিজোফ্রেনিয়া এবং ভুল ওষুধের অপব্যবহারজনিত তীব্র নিউরোলজিক্যাল ড্যামেজে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগী আসেন, যাদের মস্তিস্কের স্বাভাবিক হরমোনাল সিগন্যালগুলো ভুল প্র্যাকটিসের প্রভাবে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভয়ানক ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, কোনো মানুষ অবাস্তব চিন্তাভাবনা করা, কানে কাল্পনিক বা গায়েবি আওয়াজ শোনা (Hallucination), পরিবার বা প্রতিবেশীদের অহেতুক শত্রু ভাবা (Delusion) কিংবা হঠাৎ হিংস্র আচরণ করা শুরু হওয়ামাত্রই তারা একে জিন-ভূতের আসর বা অলৌকিক জাদুর আছর মনে করে ওঝার কাছে যান, কড়া শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন অথবা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কড়া ঘুমের বড়ি কিনে রোগীকে অনবরত গিলিয়ে জোর করে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত জীবনঘাতী ভুল কুঅভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত নিউরো-কেমিস্ট্রি ও ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রি অনুযায়ী, সিজোফ্রেনিয়া কোনো জিন-ভূতের আছর নয়; এটি হলো মস্তিস্কের ভেতরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক নিউরোট্রান্সমিটার বা 'ডোপামিন' (Dopamine) হরমোনের নিঃসরণ যখন নিউরাল পাথওয়েতে অস্বাভাবিক মাত্রায় স্পাইক করে বিশৃঙ্খল রূপ ধারণ করে।
কোনো ওটিসি ঘুমের বড়ি এই ভেতরের ডোপামিনের অনিয়ন্ত্রিত কেমিক্যাল ঝড়কে প্রাকৃতিকভাবে শান্ত করতে পারে না। আপনি যখন কোনো সাইকিয়াট্রিস্টের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ভুল ডোজে কড়া সিডেটিভ বড়ি অনবরত রোগীকে সেবন করাবেন, তখন তা মস্তিস্কের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনার রিসেপ্টরগুলোকে কৃত্রিমভাবে অ্যাসিডের মতো পুড়িয়ে স্থায়ীভাবে অবশ ও অকেজো করে ফেলে। এর সরাসরি ক্ষতিকর ফলস্বরূপ, রোগী নিজের স্বাভাবিক আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে আজীবনের জন্য জড় পদার্থে রূপান্তর হয়ে যান, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্রনিক নেগেটিভ সিম্পটমস (Negative Symptoms) বলা হয়, যা এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় রোগীকে স্থায়ী সাইকোসিসের মারাত্মক রূপের দিকে ঠেলে দেয় এবং লিভার ও কিডনির ছাঁকন ক্ষমতা পুড়িয়ে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
সিজোফ্রেনিয়ার এই ক্রনিক মেটাবলিক জটিলতা থেকে রোগীকে রক্ষা করার এবং মস্তিস্কের কোষ সচল করার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি ওষুধের অন্ধ মোহের পেছনে গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে লক্ষণ দেখামাত্রই রোগীকে অবিলম্বে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে এনে সুনির্দিষ্ট অ্যান্টি-সাইকোটিক (Antipsychotic) ওষুধি চিকিৎসা ও সামাজিক রিহ্যাবিলিটেশন শুরু করার ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো মস্তিস্কের প্রদাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
প্রতিবেশীর সিজোফ্রেনিয়ায় কবিরাজী করিয়েছিলাম। সময় নষ্ট হয়েছে। এখন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাচ্ছি।
ভাইকে শিকল দিয়ে রেখেছিলাম। ডাক্তার দেখানোর পর অ্যান্টি-সাইকোটিক ওষুধে অনেক উন্নতি হয়েছে।
ছেলের গায়েবি আওয়াজ শোনাকে জিনের আছর ভেবেছিলাম। আসলে সিজোফ্রেনিয়া ছিল। এই আর্টিকেল অনেক কাজে এসেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
