রক্তে ক্রিয়েটিনিন একটু বেশি ধরা পড়লেই কি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কড়া প্রোটিন রেস্ট্রিকশন ডায়েট নিজে নিজে করছেন?
সাবধান! পুষ্টিবিদের পরীক্ষা ছাড়া প্রোটিনের এই অনিয়ন্ত্রিত কম-বেশি আপনার কিডনির অবশিষ্ট কার্যক্ষমতাকে চিরতরে ধ্বংস করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ক্রনিক কিডনি রোগ বা CKD রোগীদের রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইউরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে কড়া প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বা অন্ধভাবে কিটো ডায়েট করা এক মারাত্মক ভুল; কারণ প্রোটিনের অতিরিক্ত বর্জ্য নেফ্রন পুড়িয়ে কিডনি সম্পূর্ণ বিকল করে দেয়।
আমাদের থেরাপিউটিক নিউট্রিশন ও রেনাল ডায়েট অনুষঙ্গে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD Stage 3/4) আক্রান্ত জটিল রোগী আসেন, যাদের রক্তে নাইট্রোজেনাস বর্জ্য ও ইউরিক এসিডের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে অনিয়ন্ত্রিত। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, ডায়াবেটিস বা মেদ বৃদ্ধির কারণে ওজন কমাতে তারা কোনো রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ানের মেটাবলিক পরীক্ষা কিংবা রক্তের ইজিএফআর (eGFR) হার না জেনেই নিজে নিজে উচ্চ প্রোটিন যুক্ত কড়া 'কিটো ডায়েট' বা ওটিসি প্রোটিন পাউডার সেবন করতে শুরু করেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং শরীরের প্রধান রক্তের ছাঁকনির জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার প্যাথলজি ও রেনাল মেটাবলিজম অনুযায়ী, আমরা যে প্রোটিন বা আমিষ খাই, তা ভাঙার পর লিভার ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন তৈরি করে, যা কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
কিডনি যখন ইতিমধ্যেই কিছুটা দুর্বল থাকে, তখন আপনি যদি চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (Serum Creatinine / eGFR) ছাড়া পরিমাণ না বুঝে উচ্চ মাত্রার ভারী আমিষ বা কেমিক্যাল সাপ্লিমেন্ট পেটে পুশ করতে থাকবেন, তখন ওই অতিরিক্ত নাইট্রোজেনের ভারী বর্জ্য ফিল্টার করার তীব্র মেকানিক্যাল চাপ সরাসরি কিডনির সূক্ষ্ম নেফ্রন কোষের ওপর পড়ে। এর সরাসরি ক্ষতিকর ফলস্বরূপ, দুর্বল নেফ্রনগুলো অ্যাসিডের মতো পুড়ে স্থায়ীভাবে ড্যামেজ হয়ে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইউরেমিক টক্সিসিটি' বলা হয়, যা এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় কিডনির অবশিষ্ট ছাঁকন ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরকে এক নিমিষে ডায়ালাইসিস স্টেজের মারাত্মক রূপের দিকে ঠেলে দেয় এবং রক্তে ইলেকট্রোলাইটের (Potassium/Phosphorus) তীব্র ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটে ফেলে দেয়।
কিডনি সচল রাখা এবং রক্তের ক্রিয়েটিনিন প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল মেগাডোজের মোহের পেছনে জীবনের গোল্ডেন সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট 'লো-প্রোটিন থেরাপিউটিক' খাবার তালিকা এবং ওষধি লাইফস্টাইলের সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, অতিরিক্ত সোডিয়াম বা কাঁচা লবণ, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা এবং ডাল, কামরাঙা, কড়া কোল্ড ড্রিংকস শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলো কিডনির কোষের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে পুষ্টিবিদের মেপে দেওয়া সুনির্দিষ্ট গ্রাম অনুযায়ী ওটস, লাল চালের ভাত, এবং ডিমের সাদা অংশ ও চর্বিহীন লিন প্রোটিন রক্তের গ্লুকোজ ও ইউরিয়া স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত পরিমিত পরিমাপে খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং কিডনি সচল রাখতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন চার্ট অনুযায়ী মেপে পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন এবং রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ক্রিয়েটিনিন বাড়লেই নিজে নিজে প্রোটিন পাউডার খেতাম। একপর্যায়ে কিডনি আরও খারাপ হলো।
পুষ্টিবিদের পরামর্শে লো-প্রোটিন ডায়েট চার্ট মেনে চলছি। ক্রিয়েটিনিন এখন নিয়ন্ত্রণে।
ডায়ালাইসিসের আগে থেকেই ডায়েট কন্ট্রোল করা উচিত ছিল। এখন খুব কষ্ট হচ্ছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
