ব্লাড সুগারের সাথে রিপোর্টে হঠাৎ কি ফ্যাটি লিভার ধরা পড়েছে? ওটিসি ডিটক্স সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন কি?
সাবধান! লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করে কড়া কেমিক্যাল বড়ির এই কৃত্রিম শর্টকাট আপনার যকৃতের প্রধান ফিল্টারিং কোষগুলোকে স্থায়ীভাবে পুড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
ডায়াবেটিস রোগীদের লিভারের চর্বি বা Fatty Liver কমাতে পুষ্টিবিদের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া ওটিসি (OTC) চটকদার লিভার টনিক, স্লিমিং চা বা আনভেরিফাইড ডিটক্স ক্যাপসুল খাওয়ার অভ্যাস যকৃতের কোষে তীব্র কেমিক্যাল বিষক্রিয়া তৈরি করে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ও মেটাবলিক লিভার ডায়েট ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত ক্রনিক রোগী আসেন, যাদের লিভার ফাংশন টেস্টে এনজাইমগুলো (SGPT/SGOT) বিপজ্জনক মাত্রায় অনিয়ন্ত্রিত। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে যকৃতে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি (Fatty Liver Grade 1) ধরা পড়ামাত্রই তারা কোনো রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ানের মেটাবলিক পরীক্ষা কিংবা রক্তের লিপিড প্রোফাইল চার্ট না জেনেই নিজে নিজে অনলাইন পেজ বা চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে কড়া কেমিক্যাল যুক্ত 'লিভার ডিটক্স সাপ্লিমেন্ট', ক্ষতিকর স্লিমিং চা অথবা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ই ক্যাপসুল অনবরত খাওয়া শুরু করেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং শরীরের প্রধান পরিশোধনাগারের জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত সেলুলার হেপাটোলজি ও এন্ডোক্রাইন লজিক অনুযায়ী, আমরা প্রতিদিন যে অতিরিক্ত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, চিনি বা সয়াবিন তেল খাই, তা লিভার সরাসরি ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড চর্বিতে রূপান্তর করে নিজের কোষে জমা করে রাখে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (Lipid Profile / Liver Function Test) ছাড়া নিজে নিজে ওটিসি কড়া বাণিজ্যিক সাপ্লিমেন্ট সেবন করবেন, তখন ওই সিন্থেটিক ক্যাপসুলের অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং আনভেরিফাইড ভারী উপাদানগুলো প্রসেস করার তীব্র চাপ সরাসরি লিভার কোষের ওপর পড়ে। এর সরাসরি ফলে, লিভার সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো যকৃতের ভেতরের মসৃণ কোষ আস্তরণগুলো অ্যাসিডের মতো পুড়ে স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি' (DILI) বলা হয়, যা এক বুড়ো আঙুলের ধাক্কায় ফ্যাটি লিভারকে এক নিমিষে মারাত্মক ও স্থায়ী লিভার সিরোসিস বা যকৃত বিকল হওয়ার জীবনঘাতী চিকিৎসাগত সংকটের দিকে ঠেলে দেয় এবং রক্তে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
যকৃতের ভেতরের অতিরিক্ত ফ্যাট বা মেদ ঝরানো এবং ইনসুলিনের সেন্সিটিভিটি প্রাকৃতিকভাবে বাড়ানোর একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল বড়ির অন্ধ মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রধান কাঁচামাল। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, দেশী তাজা ছোট মাছ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটি আস্ত পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করার অভ্যাস করুন, যা যকৃতের ভেতরের পুরোনো মেদ প্রাকৃতিকভাবেই গলিয়ে শরীর থেকে ফ্ল্যাশ আউট করে দেয়। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে দৈনিক অন্তত ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন, রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ধমনীর প্লাক পরিষ্কার করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে ডিটক্স সিরাপ খেতাম। এখন পুষ্টিবিদের ডায়েটে লিভার এনজাইম নেমেছে।
লেবু পানি আর হাঁটার অভ্যাসে আল্ট্রাসনোগ্রামে ফ্যাটি লিভার অনেক কমেছে।
স্লিমিং চা বন্ধ করে ঘরের খাবার খাচ্ছি। সুগার আর লিভার দুটোই নিয়ন্ত্রণে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
