রক্তে ইউরিক এসিড বা মেদ বেশি দেখলেই কি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওটিসি ডিটক্স লিকুইড গিলছেন?
সাবধান! লাইফস্টাইল পরিবর্তন না করে কড়া কেমিক্যাল জুসের এই অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার কিডনি ও লিভারকে স্থায়ীভাবে নিস্তেজ করছে না তো?
বিশেষজ্ঞ অভিমত
রক্তে ইউরিক এসিডের তীব্র গেঁটে বাত বা অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া ওটিসি (OTC) চটকদার স্লিমিং জুস বা কেমিক্যাল ডিটক্স ক্যাপসুল খাওয়ার অভ্যাস যকৃতের কোষে তীব্র কেমিক্যাল বিষক্রিয়া তৈরি করে কিডনি বিকলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আমাদের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন ও থেরাপিউটিক মেটাবলিক ডায়েট ওপিডিতে প্রতিদিন এমন অনেক ক্রনিক বাতের ব্যথা, মেদ বৃদ্ধি এবং ইউরিক এসিডের ভারসাম্যহীনতায় ভোগা জটিল রোগী আসেন, যাদের কিডনি ফাংশন টেস্টে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে অনিয়ন্ত্রিত। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর ও প্রতিষ্ঠিত মেকানিক্যাল ভুল প্র্যাকটিস কাজ করে যে, পায়ের বুড়ো আঙুল বা গোড়ালি ফুলে লাল হয়ে তীব্র বাতের কষ্ট শুরু হওয়ামাত্রই কিংবা পেটে মেদ জমলেই তারা কোনো রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ানের মেটাবলিক পরীক্ষা না জেনেই নিজে নিজে অনলাইন পেজ দেখে কড়া কেমিক্যাল যুক্ত 'ডিটক্স লিকুইড', মেদ কমানোর ক্ষতিকর জুস বা কড়া আনভেরিফাইড সাপ্লিমেন্ট অনবরত সেবন করতে থাকেন। এটি আমাদের সমাজের এক চূড়ান্ত ক্ষতিকর এবং শরীরের প্রধান ছাঁকন ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক চিকিৎসাগত ভুল অভ্যাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত পরিপাক প্যাথলজি ও মেটাবলিক লজিক অনুযায়ী, আমরা প্রতিদিন যে অতিরিক্ত উচ্চ পিউরিন বা প্রক্রিয়াজাত ভারী শর্করা খাই, তা লিভার মেটাবলাইজ করার পর অতিরিক্ত বর্জ্য হিসেবে রক্তে 'ইউরিক এসিড' তৈরি করে, যা সুঁইয়ের মতো ধারালো ক্রিস্টাল হয়ে জয়েন্টে অনবরত বিঁধতে থাকে।
আপনি যখন কোনো বিশেষজ্ঞের সুনির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (Serum Uric Acid / Serum Creatinine) ছাড়া নিজে নিজে ওটিসি কড়া লিপিড-লোয়ারিং বা ডিটক্স জুস সেবন করবেন, তখন ওই কাঁচা তরলের অবৈজ্ঞানিক ভারী উপাদানগুলো প্রসেস করার তীব্র চাপ সরাসরি লিভার ও কিডনির নেফ্রন কোষের ওপর পড়ে। এর সরাসরি ক্ষতিকর ফলস্বরূপ, সাময়িকভাবে কিছুটা ওজন কম মনে হলেও তা শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিক পাথওয়েকে স্থায়ীভাবে অলস ও অকেজো করে দেয়। একপর্যায়ে ইউরেট ক্রিস্টালগুলো কিডনির সূক্ষ্ম ছাঁকনি নালীতে জমা হয়ে সরাসরি ক্রনিক রেনাল ফেইলিওরের (CKD) মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে, যার ফলে রক্তে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বহুগুণ বেড়ে যায় এবং যকৃতের তীব্র প্রদাহ বা 'ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি' (DILI) এর জন্ম দেয়, যা কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই রোগীকে ডায়ালাইসিস স্টেজের দিকে ঠেলে দেয়।
কোষে জমে থাকা চর্বি গলানো এবং রক্তের ইউরিক এসিড প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার একমাত্র আসল বৈজ্ঞানিক সমাধান লুকিয়ে আছে কোনো ওটিসি কেমিক্যাল জুসের মোহের পেছনে জীবনের সময় নষ্ট না করে আপনার প্রতিদিনের সুনির্দিষ্ট খাবার তালিকা এবং কায়িক পরিশ্রমের সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের ভেতর। ওষধি ডায়েট চার্টের অংশ হিসেবে খাবার তালিকা থেকে সাদা চিনি, ডালডা, মিষ্টি, ময়দা, অতিরিক্ত লাল মাংস (গরু বা খাসির মাংস), পুঁইশাক, সামুদ্রিক মাছ এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড শতভাগ বর্জন করতে হবে; কারণ এগুলোই ইউরিক এসিড ও মেদের মূল কাঁচামাল। এর বদলে ওটস, লাল চালের ভাত, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এক মুঠো আখরোট ও তিসির বীজ খাদ্য তালিকায় রাখুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে এবং রক্তে জমে থাকা ইউরিক এসিডের বিষাক্ত ক্রিস্টাল প্রস্রাব ও ঘামের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ধুয়ে বা ফ্ল্যাশ আউট করে বের করে দিতে দৈনিক অন্তত ১২ থেকে ১৫ গ্লাস (৩.৫ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করা বাধ্যতামূলক করুন, রাত জাগা সম্পূর্ণ বর্জন করে দৈনিক ৮ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ইনসুলিনকে সক্রিয় করতে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত গতিতে হাঁটার (Brisk Walking) ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?
এই লেখাটি ০ জন ভিজিটরের বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে।
আপনার মতামত বা প্রশ্ন
সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়
ইউরিক এসিডের ব্যথায় ডিটক্স জুস খেতাম। কিডনির সমস্যা হলো। এখন ডায়েট মেনে চলছি।
প্রচুর পানি খাই, লাল মাংস বন্ধ করেছি। বাতের ব্যথা অনেক কমে গেছে।
পুষ্টিবিদের ডায়েট চার্টে চলি, প্রতিদিন হাঁটি। ইউরিক এসিড রিপোর্ট ভালো এসেছে।
প্রিমিয়ামে আপগ্রেড করুন
১৫+ বিশেষজ্ঞের ৫০০+ মতামত ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়ন পান।
আজই যোগ দিন
AI-চালিত স্বাস্থ্য লকার ও ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্য পরিকল্পনা পান।
