দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কোনো সাধারণ রক্তের ব্লকের রোগ নয়, এটি হৃদপিণ্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকারের এক আকস্মিক বৈদ্যুতিক শাটডাউন যা ৪ মিনিটের মধ্যে মস্তিস্ককে স্থায়ীভাবে মৃত (Brain Death) করে দেয়।
সাধারণ মানুষ প্রায়ই হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টকে একই ভাবেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুতর বিভ্রান্তি। হার্ট অ্যাটাক হলো ধমনীতে রক্ত বন্ধ হওয়ার 'প্লাম্বিং' বা সার্কুলেশন সমস্যা; যেখানে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা থাকে কিন্তু রোগী সচেতন থাকেন। কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Sudden Cardiac Arrest) হলো হৃদপিণ্ডের সম্পূর্ণ 'ইলেক্ট্রিক্যাল' সমস্যা। আমাদের হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দে থাকা এসএ নোড (SA Node) নামক প্রাকৃতিক পেসমেকার থেকে যে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ তৈরি হয়ে হার্টবিট সচল রাখে, কোনো গুরুতর স্নায়বিক শক বা অ্যারিদমিয়ার কারণে সেই বৈদ্যুতিক প্রবাহ হঠাৎ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। এর ফলে হৃদপিণ্ড এক সেকেন্ডে পাম্প করা বন্ধ করে দেয়, রক্তপ্রবাহ থমকে দাঁড়ায় এবং রোগী চোখের পলকে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস ও পালস সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সেলুলার স্তরে, রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার মাত্র ৪ থেকে ৬ মিনিটের মধ্যে আমাদের মস্তিস্কের অতি-সংবেদনশীল নিউরনগুলো অক্সিজেনের অভাবে আক্ষরিক অর্থেই মারা যেতে শুরু করে, যাকে অ্যানক্সিক ব্রেন ড্যামেজ (Anoxic Brain Injury) বলা হয়। এই ৪ মিনিটের জাদুকরী সময়কে বলা হয় 'প্ল্যাটিনাম মিনিটস'। এই সময়ে যদি বাইরে থেকে কৃত্রিমভাবে বুকে চাপ দিয়ে মস্তিস্ক ও হার্টে রক্ত সঞ্চালন সচল রাখা না যায়, তবে রোগীকে পরবর্তীতে আইসিইউ বা কোনো শক্তিশালী ওষুধ দিয়েও আর বাঁচানো সম্ভব হয় না।
কোনো ব্যক্তি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে তার কাঁধ ঝাঁকিয়ে জোরে ডাকুন এবং নাক ও বুকের নড়াচড়া দেখে ৫-১০ সেকেন্ডের মধ্যে শ্বাস সচল আছে কিনা নিশ্চিত হোন। যদি শ্বাস ও পালস না থাকে, তবে তাৎক্ষণিক ইমার্জেন্সি ৯৯৯-এ কল করতে কাউকে নির্দেশ দিন এবং নিজে সোজা হয়ে রোগীর বুকের ঠিক মাঝখানে স্টের্নাম হাড়ের ওপর হাত লক করে প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার গতিতে এবং অন্তত ২ ইঞ্চি গভীরতায় কড়া কার্ডিয়াক কম্প্রেশন (CPR) শুরু করুন।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত অচেতন রোগীর মুখে ভুলেও কোনো পানি, ওআরএস স্যালাইন, বা ওটিসি ড্রাগস (যেমন: অ্যাসপিরিন, নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে) ঢালার চেষ্টা করবেন না। রোগী সম্পূর্ণ অচেতন থাকায় গলার গিলে ফেলার রিফ্লেক্স অচল থাকে; ফলে যেকোনো তরল বা বড়ি সরাসরি ফুসফুসের শ্বাসনালী অবরুদ্ধ করে (Aspiration Asphyxia) তাৎক্ষণিক শ্বাসরোধে মৃত্যু ঘটাবে।
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?