সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু, ভেগাস নার্ভ ও স্থায়ী উৎকণ্ঠা মুক্তির নির্দেশিকা
বর্তমান মাইলস্টোন: মাইলস্টোন ১: প্যানিক অ্যাটাকের প্যাথলজি ও সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু
“তীব্র উৎকণ্ঠা বা প্যানিক অ্যাটাক কোনো হার্টের ত্রুটি বা নিশ্চিত মৃত্যু নয়, এটি মূলত মস্তিস্কের ভয় নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্রের অতি-সংবেদনশীলতায় ভুল অ্যালার্ম বা হরমোনাল সিগন্যাল ঝড় মাত্র।”
প্যানিক অ্যাটাক (Panic Attack) হলো কোনো বাহ্যিক বাস্তব কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে তীব্র ভয়, দমবন্ধ ভাব, বুক ধড়ফড় এবং নিশ্চিত মৃত্যুর এক অবর্ণনীয় অনুভূতি। এটি ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে তীব্রতার শিখরে পৌঁছায়। নিউরো-সায়েন্স ডিকোড করেছে যে, এটি মস্তিস্কের ভয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা অ্যামিগডালার (Amygdala) একটি তীব্র অতি-সংবেদনশীলতার বহিঃপ্রকাশ। কোনো কাল্পনিক বা অবচেতন ভয়ের কারণে অ্যামিগডালা হঠাৎ হাইপোথ্যালামাসকে সংকেত পাঠিয়ে শরীরের স্বয়ংক্রিয় সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে (Sympathetic Nervous System) এক সেকেন্ডে অন করে দেয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে 'ভুল ফাইট-অর-ফ্লাইট অ্যালার্ম' বলা হয়। এর ফলে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে বিপুল পরিমাণ 'নর-অ্যাড্রেনালিন' ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। সেলুলার স্তরে, নর-অ্যাড্রেনালিন হৃদপিণ্ডের পেশীকোষে থাকা বিটা-১ রিসেপ্টরকে অতি-উদ্দীপিত করে হৃদকম্পন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয়, রক্তনালী সংকুচিত করে প্রেশার বাড়ায় এবং ফুসফুসের ব্রঙ্কিওলসকে অতি-প্রসারিত করে হাইপারভেন্টিলেশন বা দ্রুত ছোট ছোট শ্বাস তৈরি করে। রক্তে অক্সিজেনের আধিক্য ও কার্বন ডাই-অক্সাইড কমে যাওয়ার কারণে হাত-পা অবশ ও মাথা ঘোরানো শুরু হয়, যা রোগীকে ভুলবশত হার্ট অ্যাটাকের মিথ্যা আতঙ্কে নিমজ্জিত করে।
প্যানিক অ্যাটাক শুরু হওয়া মাত্রই মনে মনে দৃঢ়ভাবে নিজেকে বলুন: "এটি কেবল একটি হরমোনের ঝড়, এটি ১০ মিনিটে চলে যাবে এবং আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ।" দ্রুত রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং ফুসফুসের অ্যালভিওলাই শান্ত করতে আপনার দুই হাত একসাথে কাপের মতো করে মুখের ওপর ধরে নিজের ছেড়ে দেওয়া শ্বাস পুনরায় ফুসফুসে টেনে নিন (Rebreathing), অথবা একটি কাগজের ব্যাগের ভেতরে ধীরগতিতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন।
প্যানিক অ্যাটাকের তীব্র লক্ষণ দেখে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে ভেবে আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে ছটফট করবেন না। প্যানিক অ্যাটাকের কারণে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন বাড়লেও এটি হার্টের ধমনীতে কোনো ব্লক বা প্লাক তৈরি করে না, ফলে এটি কোনো হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে না।
✓ প্যারাসিমপ্যাথেটিক ব্যালেন্স — হৃদকম্পন স্বাভাবিক — ভেগাস নার্ভ সচল
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?