মস্তিস্কের রক্তনালী, FAST পদ্ধতি ও গোল্ডেন আওয়ারের নির্দেশিকা
বর্তমান মাইলস্টোন: মাইলস্টোন ১: মস্তিস্কের রক্তনালীর প্যাথলজি ও স্ট্রোকের প্রকারভেদ
“স্ট্রোক হার্টের কোনো রোগ নয়, এটি সম্পূর্ণ মস্তিস্কের রক্তনালীর এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা, যেখানে প্রতি এক মিনিটে মস্তিস্কের প্রায় ১৯ লাখ মহামূল্যবান নিউরন অক্সিজেনের অভাবে চিরতরে মারা যায়।”
আমাদের মস্তিস্ক শরীরের মোট ওজনের মাত্র ২ শতাংশ হলেও, এটি হৃৎপিণ্ড থেকে পাম্প হওয়া মোট অক্সিজেনের প্রায় ২০ শতাংশ একা ব্যবহার করে। মস্তিস্কের কোটি কোটি নিউরন অনবরত গ্লুকোজ ও অক্সিজেন ব্যবহার করে ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল তৈরি করে সারা শরীর সচল রাখে। যখন মস্তিস্কের কোনো নির্দিষ্ট অংশে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা রক্তনালীতে আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। স্ট্রোক প্রধানত দুই প্রকার। প্রথমটি হলো ইসকেমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke), যা মোট স্ট্রোকের প্রায় ৮৫ শতাংশ। এতে উচ্চ কোলেস্টেরল বা এথেরোস্ক্লেরোসিসের কারণে মস্তিস্কের সরু ধমনীর ভেতরে রক্তের ক্লট বা চর্বির দলা (Thrombus/Embolus) আটকে গিয়ে রক্তপ্রবাহ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। দ্বিতীয়টি এবং সবচেয়ে মারাত্মক হলো হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke), যেখানে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের তীব্র ধাক্কায় মস্তিস্কের ভেতরের কোনো দুর্বল রক্তনালী আক্ষরিক অর্থেই ফেটে বা ছিঁড়ে যায় (Aneurysm Rupture)। ফেটে যাওয়া রক্ত মস্তিস্কের সংকুচিত কপাল গহ্বরে জমা হয়ে নিউরনের ওপর তীব্র মেটাবলিক ও হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ সৃষ্টি করে। সেলুলার স্তরে, রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিউরনের ভেতরের এটিপি (ATP) এনার্জি উৎপাদন শূন্য হয়ে যায়। এর ফলে কোষের সোডিয়াম-পটাশিয়াম পাম্প অচল হয়ে পড়ে, কোষের ভেতরে তীব্র জল ও ক্যালসিয়ামের জোয়ার ঢুকে নিউরনগুলোকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই মেরে ফেলে (Cytotoxic Edema), যার ফলে ওই অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত শরীরের নির্দিষ্ট অংশ অবশ বা প্যারালাইজড হয়ে যায়।
মস্তিস্কের ধমনীগুলোকে সুস্থ ও প্লাকমুক্ত রাখতে আপনার রক্তচাপ সর্বদা ১২০/৮০ mmHg এবং রক্তের শর্করা কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখুন। স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে দৈনিক খাদ্যতালিকায় ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত সোডিয়াম সম্পূর্ণ বর্জন করে নাইট্রিক অক্সাইড বৃদ্ধিকারী দেশীয় শাকসবজি এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
স্ট্রোককে কখনো হার্ট অ্যাটাকের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। হার্ট অ্যাটাক হলো বুকে পাথর চাপার মতো ব্যথার কার্ডিয়াক ক্রাইসিস; কিন্তু ব্রেন স্ট্রোকে বুকে কোনো ব্যথা হয় না, এটি সম্পূর্ণ স্নায়বিক অবশতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা তীব্র মাথাব্যথার আকস্মিক নিউরো-ইমার্জেন্সি।
⚠️ ইসকেমিক স্ট্রোক — ক্লট দ্বারা রক্তপ্রবাহ অবরুদ্ধ — ৮৫% স্ট্রোক এই ধরনের — tPA ইনজেকশন প্রয়োজন
এই মতামত আপনার কোন বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে?