লাইফ-সেভিং অ্যালার্ট: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোগীকে বাঁচানোর আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। বিদ্যুৎ বা লাইভ তারের উৎস সচল থাকা অবস্থায় কোনো অবস্থাতেই রোগীকে খালি হাতে বা ভেজা শরীরে স্পর্শ করবেন না।
ধাপ 1
ধাপ ১: বিদ্যুতের উৎস বিচ্ছিন্নকরণ ও নিরাপত্তা
পদ্ধতি
রোগীকে স্পর্শ করার আগে মেইন সুইচ, সার্কিট ব্রেকার বা প্লাগ বন্ধ করুন। উৎস বন্ধ করা সম্ভব না হলে জরুরি সেবাকে কল করুন এবং দূরে থাকুন। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে নিশ্চিত হলে রোগীর কাছে যান।
বিশেষ সতর্কতা / কী করবেন না: লাইভ তার, ভেজা জায়গা বা উচ্চ-ভোল্টেজ লাইনের কাছে খালি হাতে, ধাতব বস্তু বা ভেজা কোনো উপকরণ দিয়ে রোগীকে সরাতে যাবেন না।
ধাপ 2
ধাপ ২: প্রাথমিক চেতনা ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা
পদ্ধতি
উৎস নিরাপদ হওয়ার পর রোগীর কাঁধে আলতো টোকা দিয়ে সাড়া আছে কি না জিজ্ঞেস করুন। স্বাভাবিক শ্বাস দেখুন; হাঁপ ধরা বা অনিয়মিত গ্যাসপিং স্বাভাবিক শ্বাস নয়। সাড়া থাকলে তাকে শান্ত রাখুন এবং ৯৯৯-এর নির্দেশ অনুসরণ করুন।
বিশেষ সতর্কতা / কী করবেন না: পালস খুঁজতে সময় নষ্ট করবেন না। ডাউনড পাওয়ার লাইন বা উচ্চ-ভোল্টেজের ঘটনায় নিরাপদ দূরত্বে থাকুন এবং পেশাদার উদ্ধারকারীর অপেক্ষা করুন।
ধাপ 3
ধাপ ৩: জরুরি সিপিআর ও এ ই ডি
পদ্ধতি
রোগী অচেতন ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে ৯৯৯-এ কল করুন বা কাউকে কল করতে বলুন। প্রশিক্ষিত হলে বা ডিসপ্যাচারের নির্দেশে বুকের মাঝখানে জোরে ও দ্রুত চাপ দিয়ে সিপিআর শুরু করুন। এ ই ডি এলে চালু করে যন্ত্রের কণ্ঠনির্দেশ অনুসরণ করুন।
বিশেষ সতর্কতা / কী করবেন না: বিদ্যুতের উৎস নিরাপদ না হলে সিপিআর শুরু করবেন না। স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়া বা কথা বলা ব্যক্তিকে বুকচাপ দেবেন না।
ধাপ 4
ধাপ ৪: বৈদ্যুতিক পোড়া ক্ষত ঢেকে রাখা
পদ্ধতি
উৎস সম্পূর্ণ বন্ধ ও পরিবেশ নিরাপদ হলে দৃশ্যমান পোড়া স্থানটি ২০ মিনিট ঠান্ডা প্রবাহমান পানিতে ঠান্ডা করুন। এরপর নন-অ্যাডহিরেন্ট ড্রেসিং বা জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে আলতো করে ঢেকে রাখুন। বাইরে ক্ষত ছোট হলেও ভেতরে ক্ষতি থাকতে পারে—জরুরি চিকিৎসা মূল্যায়ন নিন।
বিশেষ সতর্কতা / কী করবেন না: ক্ষতে বরফ, টুথপেস্ট, তেল, সাবান, মলম বা আঠালো ড্রেসিং দেবেন না এবং ফোসকা ফাটাবেন না।
ধাপ 5
ধাপ ৫: পর্যবেক্ষণ ও শক কেয়ার
পদ্ধতি
রোগী অচেতন কিন্তু স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিলে, বড় আঘাত বা ঘাড়-পিঠে আঘাতের সন্দেহ না থাকলে তাকে কাত করে রিকভারি পজিশনে রাখুন। শুকনো চাদর দিয়ে উষ্ণ রাখুন, পাশে থাকুন এবং শ্বাস ও সাড়া পর্যবেক্ষণ করুন।
বিশেষ সতর্কতা / কী করবেন না: পড়া যাওয়া বা আঘাতের কারণে ঘাড়, পিঠ, হিপ বা পেলভিসে আঘাতের সন্দেহ হলে অপ্রয়োজনে রোগীকে নড়াবেন না। মুখে পানি বা খাবার দেবেন না।
ধাপ 6
ধাপ ৬: জরুরি মূল্যায়ন ও হাসপাতাল স্থানান্তর
পদ্ধতি
বৈদ্যুতিক শকের পর হৃদস্পন্দনের সমস্যা, গভীর টিস্যু ক্ষতি বা অন্য জটিলতা দেরিতে দেখা দিতে পারে। গুরুতর শক, পোড়া, অচেতনতা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা উচ্চ-ভোল্টেজের ঘটনায় দ্রুত জরুরি বিভাগে যান এবং কী ধরনের উৎস, আনুমানিক ভোল্টেজ ও সময়কাল জানিয়ে দিন।
বিশেষ সতর্কতা / কী করবেন না: শক হালকা মনে হলেও অস্বাভাবিক উপসর্গ, পোড়া, পড়ে যাওয়ার আঘাত বা উচ্চ-ভোল্টেজের ঘটনা অবহেলা করবেন না।