অভিজ্ঞতার তালিকায় যান
MediNest — বিশ্বস্ত স্বাস্থ্য তথ্য, সুস্থ জীবনের পথআপনার গল্পটি লিখুন
যাচাইকৃত গল্পের হাব

একটি সত্য গল্প, হাজারো মানুষের সুস্থতার অনুপ্রেরণা।

আপনার ছোট একটি অভিজ্ঞতা বা চিকিৎসকের আন্তরিকতার গল্প বদলে দিতে পারে অন্য কারও আগামীকাল। আপনার জীবনযুদ্ধের গল্পটি আজই শেয়ার করুন।

১২টি যাচাইকৃত গল্প

জরুরি সেবা

বাবার মুখ বাঁকা দেখে FAST মনে পড়ল—সময় নষ্ট করিনি।

চা খাওয়ার সময় বাবার হাত কাপে স্থির ছিল না, কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। ইউটিউবে দেখা FAST মনে পড়ল। তক্ষুনি ৯৯৯, তারপর হাসপাতাল। ডাক্তার বললেন, এক ঘণ্টা দেরি হলে আরও ক্ষতি হতো। প্রাথমিক চিকিৎসার সেই তিনটে লক্ষণ আজও মনে আছে।

ইমরান হোসেন, ২৯ বছর

যাচাইকৃত গল্প
মাতৃত্ব ও শিশু

প্রথমবার কোলে তুলেই কাঁদলাম—ডাক্তার বললেন, এটাই মা হওয়া।

অপারেশন থিয়েটারের আলোয় যখন প্রথমবার আমার মেয়েকে কোলে দিলেন, হাত কাঁপছিল। ওর শরীর এত হালকা, এত গরম। আমি কাঁদছিলাম, হাঁসছিলাম একসঙ্গে। সিজারের পর রাতে স্তন্যপান করাতে পারছিলাম না, স্তন ফুলে ব্যথা হচ্ছিল। নার্স আপা পাশে বসে ধৈর্য ধরে শেখালেন ল্যাচিং। পরের দিন সকালে গাইনি ডাক্তার এসে বললেন, “শরীর সারবে, তুমি নিজেকে দোষ দিও না।” সেই কথাটাই আমাকে প্রথম মাতৃত্বের ভয় থেকে নামিয়ে এনেছে। এখন রাতের দুধ খাওয়ানোর সময় জানালার পাশে বসি, আর মনে হয়—এই নীরবতাও একধরনের সুস্থতা।

নুসরাত জাহান, ২৮ বছর

যাচাইকৃত গল্প
ওজন ও লাইফস্টাইল

ফ্যাটি লিভার রিপোর্ট দেখে ভয় পেয়েছিলাম—ছয় মাসে পথ বদলে গেল।

২০২৫-এর আলট্রাসোনোতে ফ্যাটি লিভার গ্রেড-২ আর ফাস্টিং সুগার ১১৮। ওজন ছিল ৯২ কেজি। ডাক্তার পরিষ্কার বললেন, ওষুধের আগে খাবার ও হাঁটা। আমি রাতের পোলাও-মাংস কমিয়ে দিলাম, দুপুরে ভাত আধা প্লেট, সঙ্গে ডাল-সবজি। সকালে খালি পেটে লেবুপানি, বিকেলে ৬০০০ ধাপ টার্গেট। প্রথম মাসে মাত্র ২ কেজি কমল, নিরাশ হয়েছিলাম। তৃতীয় মাসে কোমর আলগা হতে লাগল। ছয় মাসে ১১ কেজি কমে HbA1c স্বাভাবিক সীমায় এসেছে। এখনো মিষ্টির লোভ হয়, কিন্তু রিপোর্টের সেই লাল দাগ আর দেখতে চাই না।

শাহরিয়ার কবির, ৪১ বছর

যাচাইকৃত গল্প
রোগ জয়

রিউমাটয়েডের ব্যথায় উঠতে পারতাম না—এখন সিঁড়ি ভাঙি।

সকালে হাত মুঠো করতে পারতাম না। প্রতিবেশী বলত বাত, ঘরোয়া তেলই যথেষ্ট। এক বছর নষ্ট করার পর রিউমাটোলজিস্ট ধরলেন। ওষুধের পাশাপাশি ফিজিও শেখালেন। কঠিন দিনগুলোতে স্বামী হাত ধরে হাঁটাতেন। আজকে বাজার থেকে ফিরে সিঁড়ি দিয়ে উঠে এসেছি—এটাই আমার জয়।

রেহানা বেগম, ৫২ বছর

যাচাইকৃত গল্প
চেম্বার অভিজ্ঞতা

চেম্বারে পাঁচ মিনিটও সময় দিলেন, তবু মনে হলো শোনা হয়েছে।

অনেক ডাক্তারের কাছে গিয়েছি, প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই প্রেসক্রিপশন লিখে দিতেন। এইবার স্কয়ারে এক কার্ডিওলজিস্ট আমার বুক ধড়ফড়ানি শুনে আগে রক্তচাপ মাপলেন, তারপর আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করলেন ঘুম কেমন, চাকরির চাপ কী। ওষুধ কম দিলেন, হাঁটার পরামর্শ বেশি। বেরিয়ে এসে মনে হলো, চিকিৎসা শুধু ট্যাবলেট নয়—শোনাও একটা চিকিৎসা।

মারিয়া আক্তার, ৩৪ বছর

যাচাইকৃত গল্প
রোগ জয়

কিডনির রিপোর্ট দেখে ভয়, নিয়মিত চেকআপে বাঁচলাম।

পা ফুলে যাওয়ায় প্রতিবেশী বলেছিল লবণ কম খান। নেফ্রোলজিস্ট ক্রিয়েটিনিন ধরলেন সময়মতো। এখন ওষুধ, পানি, আর লবণের মাপ—তিনটেই রোজকার কাজ। ভয় আছে, তবে পথ আছে।

আব্দুল করিম, ৫৮ বছর

যাচাইকৃত গল্প
মাতৃত্ব ও শিশু

প্রসব-পরবর্তী নীরবতা ভাঙতে এক কাপ চা আর একজন নার্স যথেষ্ট ছিল।

বাড়ি ফিরে সবাই বাচ্চা দেখতে এল, আমাকে জিজ্ঞেস করল না কেমন আছি। রাতে একা বুকের দুধ খাওয়াতে গিয়ে কেঁদেছিলাম। পরের ফলোআপে নার্স আপা বললেন, “মায়ের ঘুমও চিকিৎসা।” সেদিন থেকে স্বামী রাতের শিফটে উঠতে শুরু করলেন। ছোট সাহায্যেই পোস্টপার্টামটা সহজ হয়েছে।

সাদিয়া রহমান, ২৬ বছর

যাচাইকৃত গল্প
ওজন ও লাইফস্টাইল

লিফট ছেড়ে সিঁড়ি—এটাই আমার প্রথম জয়।

অফিসে তৃতীয় তলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠতাম না। ওজন ৭৮, হাঁটু ব্যথা। পুষ্টিবিদ ছোট লক্ষ্য দিলেন: সপ্তাহে চারদিন সিঁড়ি। দুই মাসে কোমর দুই ইঞ্চি কমল। এখন সহকর্মীরাও সঙ্গে ওঠে।

ফারজানা ইসলাম, ৩৬ বছর

যাচাইকৃত গল্প
রোগ জয়

থাইরয়েড ধরা পড়ার পর রাগ কমিয়েছি, নিয়ম বাড়িয়েছি।

অকারণে ক্লান্তি আর ওজন বাড়াকে বয়স ভেবেছিলাম। টিএসএইচ বেশি। এখন সময়মতো ট্যাবলেট, আর রাতে মোবাইল কমাই। শরীর ধীরে ফিরছে—এটাও একধরনের জয়।

খালেদা খাতুন, ৪৭ বছর

যাচাইকৃত গল্প
জরুরি সেবা

রান্নাঘরে তেলের ছিটা—বরফ না, পানি।

হাতে গরম তেল পড়ল, আতঙ্কে বরফ আনতে গিয়েছিলাম। মেয়ে থামিয়ে ২০ মিনিট ঠান্ডা পানির নিচে রাখতে বলল। ফার্স্ট-এইড গাইড পড়েছিল। ফোস্কা কম হয়েছে, ডাক্তারও তারিফ করলেন।

লাবণী দাস, ৪৪ বছর

যাচাইকৃত গল্প
চেম্বার অভিজ্ঞতা

অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল, আচরণ ছিল নরম।

গণিতে দেড় ঘণ্টা বসেছিলাম। কিন্তু ভেতরে ঢুকে ডাক্তার ক্ষমা চেয়ে নিলেন, বাচ্চার রিপোর্ট আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলেন। চেম্বারের সেই শান্ত গলাটাই আমাকে আশ্বস্ত করেছে।

তানিয়া সুলতানা, ৩১ বছর

যাচাইকৃত গল্প
চেম্বার অভিজ্ঞতা

প্রেসক্রিপশনের পাশে হাঁটার সময় লিখে দিলেন।

প্রেশারের ওষুধের নিচে আলাদা করে লিখলেন: সকালে ৩০ মিনিট হাঁটুন। ফলোআপে সেটা আগে চেক করলেন, ওষুধ পরে। এমন যত্ন মনে থাকে।

নাঈম হোসেন, ৩৯ বছর

যাচাইকৃত গল্প