মা, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্য

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য: নিরাপদ করণীয়

ব্লগ এডমিন

মেডিকেল কনটেন্ট রাইটার

মেডিকেল প্যানেল দ্বারা সত্যায়িত
৩ মিনিট পড়ার সময়

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে; মল শক্ত বা গুটলির মতো হওয়া, মলত্যাগে চাপ লাগা, ব্যথা হওয়া কিংবা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি মনে হওয়া এর লক্ষণ। হরমোন ও দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তন, কম আঁশ খাওয়া, কম পানি পান বা কম নড়াচড়া এতে ভূমিকা রাখতে পারে। আয়রনসহ কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টেও পায়খানার ধরন বদলাতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কারণ সবার এক নয়।

ধীরে ধীরে আঁশ বাড়ানো, পর্যাপ্ত পানি, সহনীয় শারীরিক নড়াচড়া এবং নিয়মিত টয়লেটের অভ্যাস অনেকের উপকারে আসে। এগুলো নিশ্চিত নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি নয়; উপসর্গ না কমলে বা উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখা দিলে প্রসূতি-সেবা প্রদানকারী বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। নির্ধারিত আয়রন বা অন্য ওষুধ নিজে বন্ধ করবেন না, আর জোলাপ বা ভেষজ পণ্য নিজে থেকে শুরু করবেন না।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হতে পারে

গর্ভাবস্থা, খাবার ও পানীয়ের পরিবর্তন, কম নড়াচড়া, রুটিন বদল এবং কিছু ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভূমিকা রাখতে পারে। আয়রনসহ নির্ধারিত ওষুধ নিজে বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

  • মল শক্ত বা গুটলির মতো হওয়া, মলত্যাগে চাপ লাগা বা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি মনে হওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের পরিচিত লক্ষণ।
  • আঁশ ধীরে বাড়ানো, পর্যাপ্ত পানি, সহনীয় নড়াচড়া এবং তাগিদ এলে টয়লেটে যাওয়া উপকারে আসতে পারে।
  • নিজে থেকে জোলাপ, ক্যাস্টর অয়েল বা ভেষজ পণ্য ব্যবহার না করে ওষুধের বিষয়ে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়ক অভ্যাস

গর্ভাবস্থায় মলত্যাগের ধরন বদলাতে পারে। নিচের অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে চেষ্টা করুন; উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

১. আঁশযুক্ত খাবার ধীরে ধীরে বাড়ান

আঁশ মলকে নরম ও সহজে বের হতে সহায়তা করে। ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসবজি, ছোলা বা মটরশুঁটি রাখুন; নাশতায় ওটস বা লাল আটার রুটি, আর নাশতায় পেয়ারা, কমলা বা মৌসুমি ফল খেতে পারেন। একদিনে অনেক আঁশ যোগ না করে কয়েক দিন ধরে ধীরে বাড়ান, যাতে পেট ফাঁপা বা গ্যাস কম হয়। খাবারের তালিকা বৈচিত্র্যময় রাখুন; কোনো একটি ফল বা খাবারকে নিশ্চিত চিকিৎসা ভাববেন না।

২. পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করুন

আঁশ কাজ করতে পর্যাপ্ত তরল দরকার। দিনভর নিয়মিত পানি পান করুন; প্রস্রাবের রং, আবহাওয়া, কাজকর্ম ও চিকিৎসকের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে, তাই সবার জন্য নির্দিষ্ট লিটার বা গ্লাসের লক্ষ্য ঠিক নয়। বমি বা অন্য কারণে পানি কমে গেলে, কিংবা তরল গ্রহণে কোনো চিকিৎসাগত সীমা থাকলে প্রসূতি-সেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নিন। জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করার দরকার নেই।

৩. গর্ভাবস্থার উপযোগী নড়াচড়া বজায় রাখুন

হাঁটা বা দৈনন্দিন হালকা নড়াচড়া অন্ত্রের নিয়মিত কাজকে সহায়তা করতে পারে। আপনার গর্ভাবস্থায় ব্যায়ামে কোনো নিষেধ আছে কি না, তা চিকিৎসকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। অনুমতি থাকলে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী হাঁটুন বা পরিচিত নিরাপদ কাজ চালিয়ে যান; নির্দিষ্ট সময় বা কঠিন ব্যায়াম সবার জন্য প্রয়োজন নয়। ব্যথা, রক্তপাত, মাথা ঘোরা বা চিকিৎসকের দেওয়া নিষেধ থাকলে ব্যায়াম না করে পরামর্শ নিন।

৪. টয়লেটের নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুলুন

প্রতিদিন সুবিধাজনক সময়ে নিরিবিলি টয়লেটে বসার সুযোগ রাখুন এবং তাগিদ এলে বেশি দেরি করবেন না। খাবারের পর স্বাভাবিক তাগিদ এলে সময় দিন। পায়ের নিচে ছোট মজবুত পিঁড়ি রেখে হাঁটু কোমরের চেয়ে সামান্য উঁচু করলে কারও কারও বসার ভঙ্গি আরামদায়ক হয়। দীর্ঘক্ষণ জোরে চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন; প্রয়োজন হলে বিরতি নিয়ে পরে চেষ্টা করুন।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যে আঁশযুক্ত খাবার ও পানি উপকারী অভ্যাস।
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে আঁশ, তরল ও নিরাপদ দৈনন্দিন অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন।

৫. খাবারের ধরন ও উপসর্গ লক্ষ্য করুন

ডাল, ফল, সবজি ও পূর্ণশস্যের মতো আঁশযুক্ত খাবার প্রতিদিনের খাবারে ছড়িয়ে রাখুন। কোন খাবারে গ্যাস বা অস্বস্তি বাড়ে তা লক্ষ্য করতে পারেন, তবে সবজি, ফল বা শস্যের বড় কোনো দল নিজে থেকে বাদ দেবেন না। খাবার বাদ দিয়ে বা ডিটক্স করে কোষ্ঠকাঠিন্য সারানোর প্রমাণ নেই। আয়রন খাওয়ার পর সমস্যা বাড়লে কখন শুরু হয়েছে তা লিখে রাখুন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

৬. আয়রন বা অন্য ওষুধ নিজে বন্ধ করবেন না

আয়রনসহ কিছু ওষুধে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, তবে গর্ভাবস্থায় এগুলো বন্ধ করা বা বদলানো নিজের সিদ্ধান্তে নিরাপদ নয়। ওষুধের নাম, কখন খান এবং উপসর্গের পরিবর্তন চিকিৎসক বা প্রসূতি-সেবা প্রদানকারীকে জানান; প্রয়োজন হলে তাঁরা বিকল্প বা গ্রহণের উপায় পর্যালোচনা করবেন। কোনো নির্ধারিত ওষুধের মাত্রা নিজে পরিবর্তন করবেন না।

৭. জোলাপ বা ভেষজ নেওয়ার আগে পরামর্শ নিন

খাবার, পানি ও নড়াচড়ায় উপকার না হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলুন। গর্ভাবস্থার কথা জানিয়ে কোন ওষুধ উপযুক্ত, কতদিন ব্যবহার করবেন এবং কখন পুনরায় যোগাযোগ করবেন তা জেনে নিন। নিজে থেকে জোলাপ, ক্যাস্টর অয়েল, সেনা-জাতীয় উদ্দীপক, ভেষজ মিশ্রণ, মিনারেল অয়েল বা অন্ত্র পরিষ্কারের পদ্ধতি ব্যবহার করবেন না। “প্রাকৃতিক” লেখা থাকলেই গর্ভাবস্থায় নিরাপদ হয় না।

নিজে থেকে ওষুধ বা অন্ত্র পরিষ্কারের পদ্ধতি ব্যবহার করবেন না

গর্ভাবস্থায় কোনো ওষুধ নেওয়ার আগে প্রসূতি-সেবা প্রদানকারী বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

  • ক্যাস্টর অয়েল, সেনা-জাতীয় উদ্দীপক, ভেষজ জোলাপ, মিনারেল অয়েল বা অন্ত্র পরিষ্কারের পদ্ধতি নিজে থেকে ব্যবহার করবেন না।
  • আয়রন বা অন্য নির্ধারিত ওষুধ নিজে বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না; সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পর্যালোচনা করুন।
  • আঁশ বাড়ালে ধীরে বাড়ান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন; কোনো খাদ্যদল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

চিকিৎসকের পরামর্শ ও সতর্কবার্তা (Medical Disclaimer)

তীব্র বা স্থায়ী পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, বারবার বমি, জ্বর, মল বা মলদ্বার দিয়ে রক্ত, অথবা মল ও গ্যাস—দুটিই বের না হলে দ্রুত চিকিৎসা-পরামর্শ নিন। গর্ভাবস্থায় রক্তপাত, নিয়মিত ব্যথা/সংকোচন বা অন্য প্রসূতি-উদ্বেগ থাকলে আপনার প্রসূতি-সেবা দলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মন্তব্য করুন

আপনার মতামত অন্য পাঠকদের উপকারে আসতে পারে। সব মন্তব্য পর্যালোচনার পর প্রকাশিত হয়।

পাঠকদের মন্তব্য